ইত্তেফাক রিপোর্ট
দেশে কয়লাভিত্তিক জ্বালানি ব্যবহার বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে ২০২১ সালের পর কয়লানির্ভর নতুন কোনো বিদ্যুত্ প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থায়ন না করার ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। পাশাপাশি গ্লোবাল ক্লাইমেট ফান্ডসহ (জিসিএফ) জলবায়ু তহবিলে ঋণ কিংবা বিমা নয়, অভিযোজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে অধিক কার্বন নিঃসারণকারী উন্নত রাষ্ট্রসমূহকে অনুদান হিসেবে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন-কপ২৬ উপলক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সংক্রান্ত ১৪টি দাবি জানিয়েছে টিআইবি।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির অবস্থানপত্র উপস্থাপন করেন সংস্থাটির ক্লাইমেট ফাইন্যান্স পলিসি ইন্টিগ্রিটি প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মাহফুজুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক শেখ মন্জুর-ই-আলম প্রমুখ। এ সময় জানানো হয়, এবারের কপ সম্মেলনে ২০৫০ সালের মধ্যে ‘নেট-জিরো’ গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসারণ করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, কয়লার ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা, প্রতিশ্রুত জলবায়ু অর্থায়ন প্রদান, বর্ধিত স্বচ্ছতা কাঠামো ও প্যারিস রুলবুক চূড়ান্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। প্যারিস চুক্তি পরবর্তী সময়ে এই বিষয়গুলো নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য এই সম্মেলনই শেষ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাই যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোতে আসন্ন কপ-২৬ সম্মেলনে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অনুন্নত দেশের জন্য অনুদান আদায়ে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) নেতৃত্বে বাংলাদেশকে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে জিসিএফের প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ে দীর্ঘসূত্রতা বন্ধে সমন্বিত ও কার্যকর দাবি উত্থাপন করতে হবে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বাংলাদেশ সরকারের করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরে বলেন, আমরা মনে করি, বাংলাদেশ যেহেতু জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম, তাই ২০২১ সালের পরে নতুন কোনো প্রকার কয়লা জ্বালানিনির্ভর প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থায়ন করবে না—জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের এই অঙ্গীকার করতে হবে।