বিমল সাহা, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
দেশে পুরোনো পাবলিক লাইব্রেরিগুলোর মধ্যে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কাঁচেরকোল পাবলিক লাইব্রেরি ও ভিলেজ হল অন্যতম। যে লাইব্রেরি এক সময় মুসলমান অধ্যুষিত পশ্চাত্পদ এলাকায় জ্ঞানের আলো ছড়াতো, সে লাইব্রেরি দুই দশক ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। নষ্ট হয়ে গেছে বহু দুর্লভ বইপত্র। বলতে গেলে প্রাচীন এ লাইব্রেরি আজ ধ্বংসের পথে। আজ থেকে ৮৪ বছর আগে ব্রিটিশ আমলে এ লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৩৭ সালে স্থানীয় জমিদার কাজী সারোয়ার হোসেন ও ডা. মো. হাবিবুর রহমানের চেষ্টায় লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন নাম ছিল কচুয়া বাজার পাবলিক লাইব্রেরি। টিনের ঘরে লাইব্রেরির কাজ চলত। সে যুগে শিক্ষা বিস্তারে এটি বিশেষ ভূমিকা রাখত। ১৯৪২ সালে তত্কালীন যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এম এন খান লাইব্রেরিটি পরিদর্শনে আসেন। লাইব্রেরি দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তখন বইয়ের সংখ্যা ছিল ৩০০। তার সুন্দর হাতে লেখা পরিদর্শন নোটটি দীর্ঘদিন লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত ছিল। লাইব্রেরির ভবন নির্মাণের জন্য তিনি অনুদানও দেন। পাকা ভবন নির্মিত হয়। নাম রাখা হয় এম এন খান পাবলিক লাইব্রেরি ও ভিলেজ হল। এরপর থেকেই লাইব্রেরির কলেবর বাড়তে থাকে। দূর-দূরান্ত থেকে পাঠক আসতেন বই ও খবরের কাগজ পড়ার জন্য। কলকাতা থেকেও ডাকযোগে খবরের কাগজ আনা হতো। সে সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। দেশ-দুনিয়ার খবর জানার মাধ্যম ছিল খবরের কাগজ। এরপর আনা হয় রেডিও। লাইব্রেরির আকর্ষণ আরো বেড়ে যায়। জমিদার বাড়ির ছেলে অকৃতদার মলি মিয়া এ লাইব্রেরি চালাতেন। তিনি এটি সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলেন। বইয়ের সংখ্যা ৪ হাজারে উন্নীত হয়। তিনি জীবিত থাকাকালে কথা বলে ইত্তেফাকের এ প্রতিনিধি লাইব্রেরির ইতিহাস জানতে পারেন। তার মৃত্যুর পর লাইব্রেরির দুর্দশা শুরু হয়।
১৯৯৭-৯৮ সাালের দিকে লাইব্রেরিটি বন্ধ হয়ে যায়। বছর পাঁচেক আগে এক বার দুয়ার খুলেছিল। তারপর ফের বন্ধ হয়ে গেছে। বহু মূল্যবান বই উইপোকায় খেয়ে নষ্ট করেছে। ভবনের ছাদ নষ্ট হয়ে গেছে, পানি পড়ে। আগাছা জন্মেছে। বলতে গেলে একেবারে ধ্বংসের পথে। কচুয়া গ্রামের কালী প্রসাদ বিশ্বাস জানান, এ লাইব্রেরিটি সাজানো গোছানো ছিল। খবরের কাগজ ও বই পড়তে অনেক পাঠক আসত। খুব জমজমাট ছিল। এখন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কাঁচেরকোল ইউপি চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন জোয়ার্দ্দার মামুন বলেন, গ্রাম্য রাজনীতির কারণে লাইব্রেরির এমন বেহাল অবস্থা। তিনি লাইব্রেরিটির প্রাণ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সফল হননি। শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা লিজা বলেন, তিনি এ ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরি পরিদর্শনে গিয়ে হতাশ হয়েছেন। কথা বলার লোক পর্যন্ত পাননি। এটি চালু করার উদ্যোগ নেবেন বলে জানান তিনি।