ভৈরব নদ যেন ভাগাড়

নির্বিচারে ফেলা হচ্ছে ময়লা

জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান ইত্তেফাককে বলেন, ভৈরব নদে হিউম্যান ওয়েস্ট এবং বর্জ্য ফেলার বিষয় নিয়ে মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় একাধিক বার কথা হয়েছে। পৌরসভাকেই এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। তারা উদ্যোগ নিলে সহায়তার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি

আহমেদ সাঈদ বুলবুল, যশোর অফিস

পয়োবর্জ্য নিষ্কাশনের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে ভৈরব নদ। দুই পাড়ের বহু বাণিজ্যিক ভবনের পয়োবর্জ্য নিষ্কাশনের নালা এই নদে মিশেছে। তাছাড়া দোকানপাটের নোংরা আবর্জনাও নির্বিচারে ফেলা হচ্ছে নদে।

শুক্রবার সরজমিনে দেখা যায়, শহরের দড়াটানা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় ভৈরব নদের দুই পাড়ের অধিকাংশ ভবনের স্যুয়ারেজ লাইন (পয়োনিষ্কাশন) সরাসরি নদের সঙ্গে যুক্ত। এসব স্যুয়ারেজ লাইন দিয়ে মানববর্জ্য নদীতে এসে পড়ছে। এতে নদের পানি দূষিত হচ্ছে। কাঠেরপুলসংলগ্ন এলাকায় স্যুয়ারেজ লাইনের পাশাপাশি নদে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। গরুর মাংসের দোকানের যাবতীয় বর্জ্য নদে ফেলায় ঐ এলাকায় দুর্গন্ধ লেগেই থাকে। দুষ্কর হয়ে পড়ে পথচারীদের চলাচলও। একই সঙ্গে কচুরিপানায়ও পূর্ণ হয়ে উঠেছে নদটি।

সরকারি মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক সোলজার হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, নদটি এখন মশা-মাছি, অসুখ-বিসুখের উেস পরিণত হয়েছে। অপসৃত বর্জ্য নিক্ষেপের কারণে দূষণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে পানির দিকে তাকানোও যায় না। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না।

পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাওহিদুল ইসলাম বলেন, আশপাশের শত শত দোকানদার প্রতিদিন সন্ধ্যায় সরাসরি নদে ময়লা ফেলছে। এতে নদের পানি দূষিত হচ্ছে। গত মে মাসে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে মেয়র মহোদয়কে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছি। আমি নিজে তার সঙ্গে দেখা করেও ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। তাদের ময়লা ফেলার ডাস্টবিন রাখা এবং প্রতিদিন রাতে তা সরিয়ে ফেলার কথাও বলেছি। নিজস্ব স্যুয়ারেজ লাইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোন কোন ভবনে এটা নেই, তা চিহ্নিত করার জন্য পৌরসভার প্রকৌশলীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এটার অগ্রগতিও আমার জানা নেই। কচুরিপানা অপসারণ প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, রূপদিয়া ও রাজারহাটের দুটি ব্রিজ এলজিইডি নতুনভাবে নির্মাণ করলে ফ্লো নীলগঞ্জ পর্যন্ত আসবে। ফ্লো ছাড়া কচুরিপানা সরানো যায় না।

বক্তব্য জানতে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পৌর মেয়র হায়দার গণি খান পলাশ ও সচিব মো. আজমল হোসেনের মোবাইলে কল দিলে তারা কেউ রিসিভ করেননি। পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোকসিমুল বারী অপু বলেন, ভৈরব নদের বর্জ্য অপসারণের বিষয় আমাদের পৌর পরিষদের সভায় কোনো আলোচনা হয়নি। এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. কামাল আহমেদ বলেন, এটা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যাপার। খনন শেষ হলো না, তার আগেই কেন নদ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হবে? জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান ইত্তেফাককে বলেন, ভৈরব নদে হিউম্যান ওয়েস্ট এবং বর্জ্য ফেলার বিষয় নিয়ে মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় একাধিক বার কথা হয়েছে। পৌরসভাকেই এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। তারা উদ্যোগ নিলে সহায়তার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।