উন্মাতাল গ্যালারিতে উদ্বাহু নৃত্য বাংলাদেশি দর্শকদের। মিরপুরের মতোই একই রকম উল্লাস, প্রাণের জোয়ারে উদ্বেলিত তারা। মুস্তাফিজের বলে এভিন লুইস আউট হতেই যেন শারজাহর গ্যালারিতে সমুদ্রের গর্জন উঠল। কান ফাটানো, গগনবিদারী চিত্কার। মেহেদীর বলে গেইল বোল্ড হতেই কম্পন উঠল। বিমলানন্দে মাতোয়ারা দর্শকরা
স্পোর্টস রিপোর্টার, শারজাহ থেকে
শুক্রবার, শনিবার আরব আমিরাতে সাপ্তাহিক ছুটি। আর ছুটির দিনে শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শারজাহর বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেল। সর্বত্রই টিকিট প্রার্থীদের ভিড়। সবাই টিকিট চান ম্যাচ দেখার। গভীর রাত অবধি দোকানে দোকানে টিকিট চেয়ে ঘুরতে দেখা গেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের। এই প্রতিবেদকের কাছেও অনেক মানুষ টিকিট চাইলেন।
কিন্তু টিকিট হয়ে পড়েছিল সোনার হরিণ। করোনার কারণে ধারণক্ষমতার ৭০ ভাগ টিকিট বিক্রি হয়েছে। সবই অনলাইনে। তবে এসব বলে বাংলাদেশিদের মন ভরানো কঠিন। তাদের সবারই শারজাহ স্টেডিয়ামে যেতেই হবে। যত টাকাই লাগুক, টাইগারদের ম্যাচ দেখতে হবে।
মিরপুর, চট্টগ্রাম, সিলেটের সঙ্গে সমান্তরালে রাখতে পারেন সাড়ে ৩ হাজার কিলোমিটার দূরের শারজাহকেও। ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও গতকাল শারজাহর গ্যালারি দেখে মনে হয়েছে মিরপুরেই আছি (যদিও করোনাকালে মিরপুরে এখনো দর্শক প্রবেশাধিকার পায়নি। হয়তো আসন্ন পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজে দর্শকরা প্রবেশের সুযোগ পাবেন গ্যালারিতে)। গোটা স্টেডিয়ামের প্রত্যেক গ্যালারিতেই টাইগার-ভক্তদের ঢল।
উন্মাতাল গ্যালারিতে উদ্বাহু নৃত্য বাংলাদেশি দর্শকদের। মিরপুরের মতোই একই রকম উল্লাস, প্রাণের জোয়ারে উদ্বেলিত তারা। মুস্তাফিজের বলে এভিন লুইস আউট হতেই যেন শারজাহর গ্যালারিতে সমুদ্রের গর্জন উঠল। কান ফাটানো, গগণবিদারী চিত্কার। মেহেদীর বলে গেইল বোল্ড হতেই কম্পন উঠল। বিমলানন্দে মাতোয়ারা দর্শকরা। যেন আকণ্ঠ নিমজ্জিত বিরুদ্ধ পরিবেশেই লড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এমনকি দর্শকদের মাতিয়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছে আয়োজকরাও। স্টেডিয়ামের সাউন্ড সিস্টেমে হুট করেই বেজে উঠে, ‘বুকে চিন চিন করছে হায়, মন তোমায় চায় চায়।’ সেখানে সুর মেলায় পুরো স্টেডিয়াম। কখনো বা প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চুর কালজয়ী গানে দর্শকদের বিনোদিত করা হয়েছে। গ্যালারিতে প্রবেশের আগে শারজাহর রোলা থেকে আসা রুকন আল হাসান জানালেন, আমাদের ছুটি আজ। আমি আমার দোকান বন্ধ করে এসেছি। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আজকে জয় নিয়ে ফিরতে চাই।
কাসিমিয়ার একটি বাংলাদেশি হোটেলে কর্মরত হাসিবুল ইসলাম টিকিট নিয়ে স্টেডিয়ামের পাশে ঘুরছেন। নিজের গেইট খুঁজছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের এ তরুণ গতকাল বলেন, ‘আমি শারজায় প্রথম ম্যাচ দেখতে আসলাম। এখানে আসার পর প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের খেলা দেখব। দারুণ লাগছে। কাজ থেকে ছুটি নিয়ে এসেছি। টিকিটের দাম বেশি, তারপরও খেলা মিস করব না।’
জানা গেছে, সর্বনিম্ন ৭৫ দিরহামে বিক্রি হচ্ছিল টিকিট। বাংলাদেশি টাকায় যা ১ হাজার ৮০০ টাকা। কিন্তু সবাই তো অনলাইনে টিকিট কিনতে পারেন না। তাই যারা অনলাইনে টিকিট কাটছেন, তারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি টিকিট নিচ্ছেন। পরে বাড়তি টিকিট ২০-৩০ দিরহাম বেশিতে বিক্রি করছেন। তাতেই ৭৫ দিরহামের টিকিট কিনতে ১০০ থেকে ১২০ দিরহামও লেগেছে অনেকের। কেউ কেউ ১৫০ দিরহামও খরচ করেছেন।
সাকিব-মুশফিকদের ম্যাচ দেখার চেষ্টায় সফল হওয়া (টিকিট পাওয়া) দর্শকদের মাঝে ছিল দুনিয়া জয়ের উল্লাস। তাদের আনন্দে পূর্ণতা এনে দিতে পারে বাংলাদেশের জয়।