স্পোর্টস ডেস্ক
অনেকেই তার ক্যারিয়ারের শেষ দেখেছিলেন। কেউ কেউ আবার বর্ণবাদীও বলেছেন। তবে সব শঙ্কা উড়িয়ে আজ ফের টি-২০ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সি গায়ে দেখা যাবে কুইন্টন ডি কককে।
‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনে সংহতি জানাতে বাধ্য করায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ম্যাচে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন কক। এরপরই সমালোচিত হতে থাকেন তিনি। ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে আলোচনার পর অবশেষে হাঁটু গেড়ে বসতে রাজি হন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। একই সঙ্গে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে কাটিয়ে দেন সেই ধোঁয়াশা। আজ শারজায় মাঠে নেমে সেটাই করবেন যা আগে কখনো করেননি। তাই নজরটা তার ওপরই বেশি থাকবে।
হাঁটু গেড়ে বসা নিয়ে কক বলেন, ‘বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গুরুত্ব আমি জানি এবং খেলোয়াড় হিসেবে উদাহরণ সৃষ্টি করা আমাদের দায়িত্ব, সে সম্পর্কেও আমি অবগত।আমার হাঁটু গেড়ে বসা যদি অন্যদের শিক্ষিত করে, অন্যদের জীবনকে ভালো করে, তাহলে আমি এটা খুশি মনেই করব। ওয়েস্টইন্ডিজের বিপক্ষে না খেলে আমি কাউকে, বিশেষ করে ওয়েস্টইন্ডিজ দলকে অসম্মান করতে চাইনি।’
মাঠের বাইরে এত আলোচনার পরও খেলায় মনোযোগ হারায়নি প্রোটিয়ারা। ওয়েস্টইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়ে তুলে নেয় আসরের প্রথম জয়। কক ফেরায় টপ অর্ডারে আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে তারা। তবে তাদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারেন দুই লঙ্কান স্পিনার ভানিন্দু হাসারাঙ্গা ও মাহিশ থিকশানা। যারা বিশ্বকাপে ভুগিয়ে আসছেন প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে চারিথ আসালাঙ্কা, কুশল পেরারা ভালো শুরু পেলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। লঙ্কানদের জয়ের ট্র্যাকে ফেরাতে হলে আজও তাদের জ্বলে উঠতে হবে। ফিনিশিং রোলে ভানুকা রাজাপাকশে অজিদের বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচের মতোই ছিলেন সফল। কিন্তু লঙ্কান পেসারদের ব্যর্থতায় বৃথা যায় তার ইনিংস।
চামিরা-কুমারাদের রংহীন পারফরম্যান্সের তুলনায় উলটো পথেই হাঁটছেন প্রোটিয়া পেসাররা। ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আজও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে রাবাদা-নরকিয়াদের। আর স্পিন দিয়ে নাকানিচুবানি খাওয়াতে মহারাজ ও শামসি তো আছেনই।
মুখোমুখি লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কাকে ১৬ বারের দেখায় ১১ বার হারিয়েছে প্রোটিয়ারা। বিশ্বকাপে দুই বারের দেখায় হারেনি কোনো ম্যাচে। দেখা যাক, আজ সেই ধারা প্রোটিয়ারা বজায় রাখতে পারে, নাকি ইতিহাসে বদল আনে শ্রীলঙ্কা।
হেড টু হেড
ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকা শ্রীলঙ্কা
১৬ ১১ ৫