সত্য ও সুন্দরের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে যাত্রাটা শুরু হয়েছিল ১৯৬৮ সালের ২৯ অক্টোবর। এরপর সংস্কৃতির সেই জাগরিত শক্তি দিয়ে অব্যাহত রয়েছে মুক্ত মানুষের মুক্ত পৃথিবী গড়ার সংগ্রাম। সেই সাংস্কৃতিক যাত্রায় উদীচী কঠিন সংগ্রাম করে চলেছে। উদীচী বোমা হামলায় কর্মীরা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে। তারপরও তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে।
কালের পরিক্রমায় সংগ্রামী পথচলা ও সাংস্কৃতিক যাত্রার ৫৩ বছর পূর্ণ করল ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। গতকাল শুক্রবার আনন্দ আয়োজনে এবং সম্প্রীতির আহ্বানের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হলো সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের বিরুদ্ধে আয়োজনে ছিল প্রতিবাদী উচ্চারণ। গানের সুরে, কবিতার ছন্দে ও বক্তার কথনে উচ্চারিত হলো অশুভ শক্তিকে রুখে দেওয়ার প্রত্যয়।
‘নৈঃশব্দে জেগে ওঠো দ্রোহে’ স্লোগানে শুক্রবার বিকালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সম্মিলিত কণ্ঠে ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরিবেশিত হয় দলীয় সংগীত। এরপর ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ সব আন্দোলন-সংগ্রামের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে শহিদ মিনারে বেদিমূলে অর্পণ করা হয় পুষ্পাঞ্জলি।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, ধর্মান্ধ অপশক্তিকে সাংস্কৃতিক শক্তি দিয়েই পরাজিত করতে হবে। উদীচীর সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন সংগঠনের সহ-সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ ইঁদু, উদীচীর পতাকার ডিজাইনার শিল্পী আনোয়ার হোসেন, সহ-সভাপতি প্রবীর সরদার, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, সহ-সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম প্রমুখ।
সাংস্কৃতিক পর্বে একক সংগীত পরিবেশন করেন মাহমুদ সেলিম ও হাবিবুল ইসলাম। কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাম্যবাদী’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী রফিকুল ইসলাম। এছাড়াও একক আবৃত্তি করেন বেলায়েত হোসেন। সমবেত সংগীত পরিবেশন করে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও স্বভূমি লেখক শিল্পী কেন্দ্র। জামসেদ আনোয়ার তপনের গ্রন্থনায় পরিবেশিত হয় ‘কেমন আছে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলেখ্যানুষ্ঠান। নির্দেশনায় ছিলেন সঙ্গীতা ইমাম ও সুরাইয়া পারভীন। সবশেষে পরিবেশিত হয় ড. রতন সিদ্দিকী রচিত ও প্রবীর সরদার নির্দেশিত নাটক ‘অজ্ঞাতনামা’।