দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যা পত্রিকার সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সুষুম ও শান্তিপূর্ণ না হলে দেশে নৈরাজ্য হবে। ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, চলমান উন্নয়নের ধারা ব্যাহত হবে। স্থানীয় সরকারব্যবস্থার সর্বনিম্নের স্তর ইউনিয়ন পরিষদে যোগ্য, সৎ, ভালো মানুষ তথা উন্নয়নবান্ধব ব্যক্তিদের নির্বাচিত করা উচিত। শুক্রবার পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলায় কয়েকটি নির্বাচনি পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আগামী ১১ নভেম্বর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে জাতীয় পার্টি-জেপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পক্ষে তিনি পৃথক পৃথক নির্বাচনি পথসভায় আরো বলেন, এলাকায় পরিচিত, পরীক্ষিত, দুর্নীতিমুক্ত প্রার্থীদের নির্বাচিত করা গেলে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তারা সাধারণ মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে প্রয়োজনে রাস্তাঘাট নির্মাণ, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হন। দেশ ও সমাজে নারীদের স্বনির্ভর অবস্থান তথা অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও শিক্ষিত হওয়ার ধারা সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের সঠিক ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই সেক্ষেত্রে সংসদ সদস্য এবং সরকারকে সহযোগিতা করতে পারেন। পাশাপাশি ইন্দুরকানীসহ দেশে বিভিন্ন স্থানে অতীতে যে অস্থিতিশীল তথা সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল গত সাত-আট বছরে তার উত্তরণ ঘটেছে। এ এলাকার সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে এ অঞ্চলের এই পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। ইন্দুরকানীর মানুষ এখন নির্বিঘ্নে রাতে নিজেদের বাড়িতে শান্তিতে ঘুমায়। অহেতুক হয়রানিমূলক মামলা-মোকদ্দমা থেকে মুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি রাস্তাঘাট, বিদ্যুত্, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়নের ছোঁয়া পেয়ে এলাকাবাসী অত্যন্ত সন্তুষ্ট।
তাসমিমা হোসেন আরো বলেন, ইন্দুরকানীতে এই পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত রাখতে জাতীয় পার্টি-জেপির মনোনীত প্রার্থীদের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সাইকেল মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। এ এলাকার মানুষ অত্যন্ত ধর্মভীরু, সহজ-সরল, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সামাজিক অনুশাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ৮/১০ বছর আগে যে সামাজিক অবস্থা বিরাজ করত তার পরিবর্তনের ধারা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এই ধারাকে অক্ষুণ্ন রাখতে সাইকেল মার্কার প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে। কোনো পক্ষ যদি ভোটকেন্দ্রে সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে চায়, ভোটের বাক্স ছিনতাই করতে আসে তাদের সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করা কর্তব্য। তাই ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। মানুষ যাতে বিনা বাধায় ভোটকেন্দ্রে আসতে পারে তার সকল ব্যবস্থা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা সচেতন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে হবে। জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের মতো স্থানীয় সরকার পর্যায়ে নির্বাচনে জনগণের মতের সঠিক প্রতিফলন ঘটলে তা রাষ্ট্রব্যবস্থাকে সুসংহত করে।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করছেন। তৃণমূল পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দুর্নীতিমুক্ত সত্, যোগ্য, উন্নয়নবান্ধব হলে শেখ হাসিনার হাত আরো শক্তিশালী হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের সার্থকতা পাওয়া যাবে।
শুক্রবার রাতে ইন্দুরকানী উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নে জনকল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে জাতীয় পার্টি-জেপি আয়োজিত বিরাট এক নির্বাচনি পথসভায় বক্তব্য রাখেন তাসমিমা হোসেন। স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি রফিকুল ইসলাম পান্নুর সভাপতিত্বে এখানে আরো বক্তব্য রাখেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. শাহীন হাওলাদার, কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া মনু, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপির সদস্যসচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, এলাকার বিশিষ্ট বিদ্যোত্সাহী সিরাজিস সালেকীন শুভ তালুকদার, সমাজসেবী জিল্লুর রহমান শান্তি ও ছাত্র সমাজের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক জসীম মীর।
তাসমিমা হোসেন বিকালে ইন্দুরকানীতে দলীয় প্রার্থী আসাদুল কবির তালুকদার স্বপনের পক্ষে আরেকটি নির্বাচনি পথসভায় বক্তব্য রাখেন। এখানে আরো বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন, জেপি নেতা মাহমুদ সেলিম, যুব সংগঠক আহাদুল ইসলাম শিমুল, হাফিজুল ইসলাম প্রমুখ। বিকালে তিনি পাড়েরহাট ইউনিয়নের টগড়া দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আরেকটি নির্বাচনি পথসভায় বক্তব্য রাখেন। এখানে আরো বক্তব্য রাখেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপির সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু ও পাড়েরহাট ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী গোলাম সরোয়ার বাবুল।
শুক্রবার ইন্দুরকানী উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি-জেপির প্রার্থীদের পক্ষে জনসংযোগকালে তাসমিমা হোসেনের সফরসঙ্গী ছিলেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মশিউর রহমান জোমাদ্দার, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, পিরোজপুর জেলা পরিষদের সদস্য রেজাউল হক রেজভী জোমাদ্দার, ইন্দুরকানী উপজেলা জেপির যুগ্ম সম্পাদক মনিরুজ্জামান রানা, জাতীয় মহিলা পার্টির উপজেলা সভানেত্রী সুলতানা রাজিয়া রানী, যুব সংহতির উপজেলা সভাপতি মজনু হোসেন রনী প্রমুখ।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি