কোভিড-১৯-এর উত্স হয়তো কখনোই জানা যাবে না

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দ্বিধাবিভক্ত মূল্যায়ন

বিবিসি ও রয়টার্স

কোভিড-১৯-এর উত্স হয়তো কখনোই শনাক্ত করা যাবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তবে এটি যে জীবাণু অস্ত্র হিসেবে বানানো হয়নি তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিশ্ব জুড়ে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের উত্স নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের এক হালনাগাদ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ভাইরাস প্রাণী থেকে মানুষে কিংবা গবেষণাগার থেকে দুর্ঘটনাবশত বাইরে ছড়িয়েছে—এ দুটি অনুমানই যুক্তিযুক্ত। যে কোনো একটির ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে স্বীকারও করে নিয়েছে তারা। চীন যুক্তরাষ্ট্রের এই মূল্যায়নের সমালোচনা করেছে ।

আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ভাইরাসের উত্স সংক্রান্ত যে প্রতিবেদন দিয়েছিল, ৯০ দিন পর্যালোচনা শেষে অবমুক্ত করা তার হালনাগাদ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এ মূল্যায়ন উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো করোনা ভাইরাসের উত্স নিয়ে এখনো দ্বিধাবিভক্ত। চারটি গোয়েন্দা সংস্থা আক্রান্ত কোনো প্রাণীর মাধ্যমে ভাইরাসটি মানুষের কাছে এসেছে এমন ধারণায় ‘সামান্য আস্থাশীল’। একটি গোয়েন্দা সংস্থা উহানের ভাইরোলজি ইনস্টিটিউট থেকে দুর্ঘটনাবশত বা কোনো পশুর শরীরে পরীক্ষা চালানোর সময় ভাইরাসটি বাইরে চলে এসেছিল, এমন অনুমানে ‘মাঝারি আস্থা’ রেখেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের শেষদিকে উহানে প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার আগ পর্যন্ত চীনের কর্মকর্তারা ভাইরাসটির অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। চীন করোনা ভাইরাসের উত্স নিয়ে তদন্তে বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় বাধাদান অব্যাহত রেখেছে এবং তথ্য আদান-প্রদানে বাধা দেওয়া অব্যাহত রেখেছে বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়।

এ প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটনের চীন দূতাবাস বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, ‘কোভিড-১৯-এর উত্স শনাক্তে বিজ্ঞানীদের পরিবর্তে নিজেদের গোয়েন্দাদের ওপর নির্ভর করার যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রহসন। আমরা ভাইরাসের উত্স শনাক্তে বিজ্ঞানভিত্তিক চেষ্টাকে সমর্থন দিয়ে আসছি এবং এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে নিয়োজিতও আছি। এই বিষয়ের রাজনীতিকরণ করার চেষ্টার ঘোর বিরোধী আমরা।