প্রতি বছর ১ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি কিংবা ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হওয়া একটি প্রচলিত রেওয়াজ। জীবনযাত্রার বর্ধিত ব্যয় নির্বাহের জন্যই এই বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রবর্তিত পে স্কেলের গেঁড়াকলে পড়ে হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বন্ধ রয়েছে। বেতন স্কেলের শেষ ধাপে পৌঁছার পর তাঁদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে গেছে। অতীব পরিতাপের বিষয় যে, ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে বেতন স্কেল চালুর পর পূর্ববর্তী ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রবর্তিত পে স্কেলের বিভিন্ন সুবিধা যেমন টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ইত্যাদি সুবিধা বিলুপ্ত করা হয়েছে। ফলে পদোন্নতির সীমিত সুযোগ থাকায় শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বেতন স্কেলের শেষ ধাপে পৌঁছালেও পরবর্তী পদোন্নতি ব্যতিরেকে বছরের পর বছর ইনক্রিমেন্ট ছাড়া চাকরি করতে হচ্ছে! অন্যদিকে পদোন্নতি হওয়ার পর একজন কর্মকর্তা তাঁর অর্জিত ওপরের বেতন স্কেলে ফিক্সেশন করে মূল বেতন গ্রেডের প্রথম স্তরে থাকেন না। ঐ গ্রেডের আরো কয়েকটি ইনক্রিমেন্ট পার হয়ে মূল বেতন নির্ধারিত হয়। ফলে দেখা যায় যে, কয়েক বছর চাকরি করার পর সে কর্মকর্তা বেতন গ্রেডের শেষ স্তরে পৌঁছে যান। গ্রেডে আর স্তর না থাকায় তিনি ইনক্রিমেন্ট বিহীন চাকরি করছেন। বিশেষ করে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে এই সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে। এই ক্যাডারের ৯ম, ৫ম ও ৪র্থ গ্রেডের কর্মকর্তারা ইনক্রিমেন্ট ছাড়া চাকরি করে যাচ্ছেন। উল্লেখ যে, বর্তমানে ১৬০০০ সদস্যের এই ক্যাডারে ৪র্থ গ্রেডের ওপর পদ নেই বললেই চলে। এ অবস্থায়, সরকারের কাছে আকুল আবেদন এই যে—আমাদের বেতনে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত করার ক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্য দূর করতে ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক