বগুড়া, পটুয়াখালী ও শেরপুরে ইউপি প্রার্থীসহ আহত প্রায় অর্ধশত
ইত্তেফাক ডেস্ক
ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা বাড়ছে। বগুড়া, পটুয়াখালী ও শেরপুরে সংঘর্ষে ইউপি প্রার্থীসহ প্রায় অর্ধশত লোক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে বগুড়ায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বাড়ছে সংঘাত। নৌকা প্রার্থীর সঙ্গে বিদ্রোহী ও অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকদের বিরোধ বেড়েই চলেছে। গত তিন দিনে বগুড়া সদর, শিবগঞ্জ ও শেরপুরে কয়েকটি হামলা, সংঘর্ষ, অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় এলাকায় প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দ্বিতীয় ধাপে শিবগঞ্জ উপজেলায় ১১ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শিবগঞ্জ সদর ইউনিয়নের নির্বাচনি প্রচারণা নিয়ে বুধবার রাতে নৌকার কর্মীরা বিদ্রোহী প্রার্থীর নির্বাচনি অফিসে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিহার ইউনিয়নের বিহার হাটের এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন।
বুধবার প্রতীক বরাদ্দের পরপরই প্রার্থীরা মাঠে নামেন। সন্ধ্যার পর শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ রিজু প্রায় শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে বিহারহাট এলাকায় গিয়ে মোটরসাইকেল প্রতীকের পক্ষে সভা করেন। রাত ৮টার দিকে মোটরসাইকেল প্রতীকের মতিনের নির্বাচনি অফিসে হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে অন্তত ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। মারপিটে ১০ জন আহত হয়েছেন বলে প্রার্থী মতিন দাবি করেছেন। শিবগঞ্জ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে চার জনকে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার জন্য বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজনের উসকানিমূলক বক্তব্যকে দায়ী করেছেন। বৃহস্পতিবার আহত হারুনের বাবা বাবু মোল্লা শিবগঞ্জ থানায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অন্যদিকে বুধবার রাতে মাঝিহট্ট ইউনিয়নে এসকেন্দার আলী সাহানা নামে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর (অটোরিকশা) ১১টি নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের লোকজন ভালুঞ্জা, শনভালকি, ভারাহার, মাঝিহট্ট, গোবিন্দপুর, মোল্লাপাড়া ও চকপাড়াসহ ১১টি অফিসে অতর্কিত হামলা চালায় বলে জানান তিনি। চেয়ারম্যান প্রার্থী সাহানা এ হামলার জন্য আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুল গফুর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আকবর আলীকে দায়ী করেছেন। এর আগে গত ২৬ অক্টোবর রাতে শিবগঞ্জের কিচক ইউনিয়নের সোনারপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা একে অন্যকে দায়ী করেন।
শিবগঞ্জ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে বগুড়া সদর উপজেলার নুনগোলা ইউনিয়নের রজাকপুর এলাকায় গত মঙ্গলবার রাতে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আলিম উদ্দিনের পক্ষে প্রচারণা চালাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন জেলা ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজার রহমানসহ পাঁচ জন। তাকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও দুইটিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ হামলার জন্য আলিম উদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী বদরুল আলমের কর্মীদের দায়ী করেন। বগুড়া সদর থানার ওসি সেলিম রেজা জানান, নুনগোলার ঘটনায় মামলা হয়নি। এছাড়া বুধবার রাতে শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের খানপুর পূর্বপাড়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রচারণা সভায় হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে আনারুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলামকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আনারুল ইসলাম শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নে নির্বাচনি হামলায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জুয়েল মৃধাসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে লোহালিয়া খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জুয়েল মৃধা ও তার সমর্থক চার জন পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। লোহালিয়া ইউনিয়নে দায়িত্বরত বিট পুলিশিং কর্মকর্তা সদর থানার উপ-পরিদর্শক বিপুল চন্দ্র বলেন, লোহালিয়া খেয়াঘাট এলাকায় নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানন, লোহালিয়া এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) সংবাদদাতা জানান, ঝিনাইগাতীতে শনিবার সকালে আধিপত্য বিস্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ইউপি সদস্য হামিদুল্লাহ ও তার দুই ছেলে আহত হয়েছেন। হামিদুল্লাহ উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য। উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ভারুয়া বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নলকুড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মজনু মিয়া জানান, ইউপি সদস্য হামিদুল্লাহ এবং ঐ ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ইব্রাহিমের মধ্যে বেশ কিছুদিন থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চলে আসছিল আধিপত্য বিস্তারের লড়াই। এ নিয়েই শনিবার সকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ইউপি সদস্য হামিদুল্লাহসহ আহত তিনজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাদের শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তারা শেরপুর সদর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের ঘটনার খবর পেয়ে বিট পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।