মসিকে দিনের বেলায় বর্জ্য ফেললে ব্যবস্থা

সংগ্রহ হচ্ছে রাতে

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকায় রাত্রিকালীন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে সিটি করপোরেশন এলাকায় বসবাসরত মানুষদের মধ্যে। সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, ময়মনসিংহ শহরে প্রতিদিন উত্পাদিত বর্জ্যের পরিমাণ প্রায় ৪০০ টন।

এ বছর ফেব্রুয়ারি থেকে সিটিতে চালু হয়েছে রাত্রিকালীন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। এতে নাগরিকগণ সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টার মধ্যে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলছেন এবং রাতের মধ্যেই তা সরিয়ে নিচ্ছে সিটি করপোরেশন। শহরের ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যমেরা এবং এ ক্যামেরা ফুটেজ দেখে দিনের বেলা কেউ বর্জ্য ফেললে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা হচ্ছে। এতে দিনের বেলা শহরের রাস্তাঘাট থাকছে বর্জ্যমুক্ত। বর্জ্যের ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়াতে শম্ভুগঞ্জে অবস্থিত শহরের একমাত্র ডাম্পিং স্টেশনের আয়তন ৩ একর থেকে ৬ একরে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ডাম্পিং স্টেশনের ভেতরে একটি রাস্তা নির্মাণ করে এখন বর্জ্যকে ডাম্পিং স্টেশনের ভেতরে নিয়ে ফেলা হচ্ছে এবং নির্মাণ করা হচ্ছে সীমানাপ্রাচীর। এছাড়া সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরো দুটি ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা সিটি করপোরেশনের রয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় টেকসই সমাধানে বর্জ্য থেকে বিদ্যুত্ উত্পাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও নেওয়া হয়েছে উদ্যোগ। শহরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে তা আকুয়ায় স্থাপিত প্ল্যান্টে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। শহরের মানববর্জ্য সংগ্রহ করে তা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বছরে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টন জৈব সার উত্পাদন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমিন কালাম বলেন, রাত্রিকালীন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগে শহর পূর্বের তুলনায় অনেক পরিচ্ছন্ন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে নগরবাসী একটি পরিচ্ছন্ন সকাল পাচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে সবাইকে আরো সচেতন হতে হবে। না হলে এরকম একটি ভালো উদ্যোগও ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে।

এ ব্যাপারে সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু বলেন, ময়মনসিংহ শহরকে বর্জ্যমুক্ত করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। করোনা মহামারির কারণে আমাদের কিছু উদ্যোগ বিলম্বিত হয়েছে। তবে আমরা ইতিমধ্যে দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তন আনতে সামর্থ্য হয়েছি।