এডিআর পদ্ধতির সফল প্রয়োগে আদালতের ওপর মামলার চাপ কমবে : আইনমন্ত্রী

ইত্তেফাক রিপোর্ট

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতিতে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় বিশ্বব্যাপী এ পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বাড়ছে। বাংলাদেশ সরকারও এডিআর পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। দেশে এডিআর পদ্ধতি সফলভাবে প্রয়োগ করা গেলে প্রচলিত আদালতের              ওপর মামলার চাপ এবং এতে মামলাজটও কমবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম বার সরকার গঠন করে আরবিট্রেশন আইন, ২০০১ প্রণয়ন করেন। এ ছাড়া গত কয়েক বছরেও তার সরকার বেশ কিছু আইনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান সংযুক্ত করেছে।

গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন  সেন্টার (বিয়াক) আয়োজিত ‘ভার্চুয়াল বিশ্বে বিরোধ নিষ্পত্তিতে কোভিড-১৯ এর প্রভাব’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। বিয়াকের ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষ্যে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বিয়াকের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান অনুষ্ঠান              সঞ্চালন করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, আদালতের বাইরেও বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার সব সরকারি চুক্তিতে আরবিট্রেশন এবং মেডিয়েশনের জন্য উপযুক্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত করার কথা বিবেচনা করছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি উভয় আরবিট্রেশনের অ্যাওয়ার্ড কার্যকর করার পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকার ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইন আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

বিয়াকের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি প্রসারের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার অনেক আইনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিকে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধন করেছে। বিগত এক দশকে অনেক বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাবসায়িক বিরোধ সংক্রান্ত উদ্যোগে বিয়াকের সেবা প্রদানের মাধ্যমে এর চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির অনুশীলন প্রসারে বিয়াক সক্ষম হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই চাহিদা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ, হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমান, বিয়াকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ এ (রুমী) আলী, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবির, এবি ব্যাংক লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক আফজাল, ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও হুমায়রা আজম, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. ফারহানা হেলাল মেহতাব ও ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বক্তৃতা করেন।