সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
নীলফামারীর সৈয়দপুরে চোরাই গরু বহনকারী একটি পিকআপ ভ্যানের পিছনে প্রায় ৫০ কিলোমিটার ধাওয়া করে ছয়টি চুরি যাওয়া গরু উদ্ধার করা হয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার টেঙ্গনমারী এলাকা থেকে চুরি যাওয়া গরুগুলো উদ্ধার করা হয়। তবে চোরের দল পিকআপ থেকে চোরাই একটি একটি করে গরু ফেলে দিয়ে পিকআপ নিয়ে পালিয়ে গেছে। এতে গরুগুলোর শরীরে জখম হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৈয়দপুর শহরের কুন্দল জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলাম ট্যাপা (৫০)। তিনি বাড়ির পাশে একটি গরুর খামার গড়ে তুলেছেন। তার গরুর খামারে বেশ কয়েকটি দুধেল গাভী ও বাছুর গরু রয়েছে।
ঘটনার দিন রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সাত-আট জনের গরু চোরের দল একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে তার বাড়িতে হানা দেয়। গরু চোরের দল গৃহকর্তার বাড়িসংলগ্ন সৈয়দপুর-দিনাজপুর সড়কের পাশে তাদের নিয়ে আসা পিকআপ ভ্যানটি দাঁড় করে রেখে তার (শফিকুল ইসলাম) গোয়াল ঘর থেকে তিনটি দুধেল গাভী ও তিন বাছুর গরু বের করে ঐ পিকআপ ভ্যানে তুলে। এ সময় একটি বাছুর গরু আকস্মিক ডাকচিত্কার করে উঠলে গৃহকর্তা ঘটনাটি টের পেয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন। এ সময় তিনি বাড়ি গোয়াল ঘরের মধ্যে গরু দেখতে না পেয়ে এবং সামনে পিকআপ ভ্যানে গরু তুলতে দেখে চিত্কার দেন। তার আর্তচিত্কারে সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সামনে থাকা অ্যাম্বুলেন্স চালক রুহুল ইসলাম, রাব্বীসহ সেখানে থাকা আরো কয়েক জন এলাকাবাসী দ্রুত ছুটে আসেন।
পরে তারা অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলে নিয়ে চোরাই গরু বহনকারী পিকআপ ভ্যানটির পিছনে ধাওয়া করেন। এ অবস্থায় চোরের দল চোরাই গরু বহনকারী পিকআপটি নিয়ে সৈয়দপুর-দিনাজপুর বাইপাস হয়ে নীলফামারীর জলঢাকার দিকে যেতে থাকে। এর এক পর্যায়ে অবস্থা বেগতিক দেখে চোরেরা প্রায় ৫০ কিলোমিটার যাওয়ার পর জলঢাকার টেংগনমারি এলাকায় চলন্ত পিকআপ ভ্যানে থাকা একটি একটি করে গরু ফেলে দিয়ে পিকআপ ভ্যানটি নিয়ে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায়। আর চলন্ত পিকআপ ভ্যান থেকে গরুগুলো ফেলে দেওয়ায় শরীরে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এ সব গরুর মূল্য আনুমানিক ৪ লাখ টাকা।