আমি সমালোচনায় কান দেই না : আসিফ

স্পোর্টস ডেস্ক

১৮তম ওভারের শেষ বলে সিঙ্গেল নিতে চেয়েছিলেন শাদাব খান। কিন্তু অতি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাকে ফিরিয়ে দেন আসিফ আলী। তা দেখে যেন কমেন্ট্রি বক্সে থাকা ক্রিকেট বিজ্ঞরাও চমকিত। ঐ সিঙ্গেল না নেওয়ায় শেষ দুই ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন পড়ে ২৪ রান। স্বীকৃত ব্যাটসম্যান বলতে আসিফ আলী ছিলেন একাই।  মাঠের সবচেয়ে ছোট দিকের সুবিধা পেতে তাই নিজেকে স্ট্রাইক প্রান্তে রাখাটাই শ্রেয় মনে করেছিলেন তিনি।

টি-২০-এর যুগে আজকাল শেষ দুই ওভারে ২৪ রান অসম্ভব কিছু নয়। তা হরহামেশাই হয়। কিন্তু কাজটা বড্ড কঠিন, আর সেটা যদি রান তাড়া করতে গিয়ে হয় তাহলে তো কথাই নেই। তবে নিজের পাওয়ার হিটিং ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাস ছিল বলেই ম্যাচটি শেষ ওভারে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করলেন না আসিফ। ১৯ তম ওভারে করিম জানাতকে ৪ ছক্কা হাঁকিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে আরো একবার জয়ের উল্লাসে ভাসান তিনি। যেখানে তার অবদান ৭ বলে ২৫ রান। ছক্কা মারাটা খুবই সহজ কাজ আসিফের। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও ঠিক একই জায়গা থেকে দলকে উদ্ধার করার পাশাপাশি জয় এনে দেন। খেলেন ১২ বলে ৩ ছক্কায় ২৭ রানের অপরাজিত ইনিংস। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলার পর, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আর কোনো নির্দেশনা আছে কি না, জানতে চেয়েছিলেন আসিফ। যদি থেকে থাকে সেটাও পূরণ করে দিবেন তিনি।

আসিফ টুইটারে লেখেন, ‘আর কোনো নির্দেশনা আছে পাকিস্তান? ধন্যবাদ ইসলামাবাদ ইউনাইটেড ও সেই লোকদের যারা কঠিন সময়ে আমার প্রতি আস্থা রেখেছিলেন।’

অথচ এই বিশ্বকাপের কয়েকদিন আগেও আসিফ পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছে ছিল এক রহস্যের নাম। ঘরোয়া ক্রিকেট আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মধ্যে যে বিস্তর ফারাক আছে সেটা বোঝাতো আসিফ আলীকে। তিন বছর পাকিস্তানের জার্সিতে খেলেও ফুটে উঠতে পারেননি  ৩০ বছর বয়সি ডানহাতি ব্যাটসম্যান। কিন্তু এর বাইরে গেলেই ঝড় তুলেন মাঠে। চলতি বছর দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে সফরে ব্যর্থতার পর তুমুল সমালোচনা ও বিদ্রুপের শিকার হন তিনি।

শর্ট বলে তার দুর্বলতা বেশ ভালোভাবেই আলোচিত হচ্ছিল। অথচ সেসব নিয়ে মাথাই ঘামাননি আসিফ, ‘আমি সমালোচনায় কান দেই না। সোশ্যাল মিডিয়াও অনুসরণ করি না, এর থেকে অনেক দূরে আছি। আমার রোলটাই এমন যে, আমি মাঝেমধ্যে দলে আসি এবং মাঝেমধ্যে বাদ পড়ি। পাকিস্তান আমাকে প্রয়োজন মনে করায় ডেকেছে।’ আসিফের ক্যারিয়ারের শুরুর পথটা মসৃণ ছিল না। ক্রিকেটে আসার আগে কাজ করেছেন কামার হিসেবে। ঘরোয়ার ক্রিকেটে পরিসংখ্যান বেশি কথা বলে না তার হয়ে। তবে বল পেটাতে খুবই ভালোভাসেন, তাই ক্রিকেটের ক্ষুদ্র সংস্করণটাই তার প্রথম পছন্দ। ফিনিশার হিসেবে এমন একজনকে অনেক দিন ধরেই খুঁজছিল পাকিস্তান। তাই ২০১৯ ওয়ান-ডে বিশ্বকাপে তাকে নিয়ে দল ঘোষণা করে। সেই বিশ্বকাপ শুরুর আগেই দেড় বছরের কন্যাসন্তানের মৃত্যুর খবর পান আসিফ। তারপরও দেশের কথা ভুলেননি। মেয়ের দাফন শেষে সোজা চলে যান ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ ক্যাম্পে। কিন্তু শোককে শক্তিতে পরিণত করে জ্বলে উঠতে পারেননি এই ব্যাটসম্যান। এক বিশ্বকাপে না হোক, আরেক বিশ্বকাপে ঠিকই নিজের মর্ম বোঝাচ্ছেন আসিফ।

 

ডেথ ওভারে (১৬-২০) আসিফ আলীর ব্যাটিং

বল-৩৮৮

রান-৭৭৬

চার-৫৫

ছয়-৬২

স্ট্রাইক রেট-২০০