প্রসূতির নবজাতক পরিবর্তনের ঘটনায় ডিএনএ টেস্টের দাবি পরিবারের

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে এক প্রসূতির নবজাতক পরিবর্তনের ঘটনায় হাসপাতালের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রসূতির সকল কাগজপত্রে লেখা রয়েছে তাদের কন্যা সন্তান জন্ম নিয়েছে। শনিবার (৩০ অক্টোবর) একথা জানা গেছে।

এদিকে ভুক্তভোগী রোগীনি সুমাইয়া আক্তার (১৮) ও তার স্বামী আরশাদুল ইসলামের অভিযোগ, গত ২৮ অক্টোবর হাসপাতালে পুত্র সন্তান জন্ম হলেও তাদের পরিকল্পিতভাবে দেওয়া হয়েছে কন্যা সন্তান। গৃহবধূর পরিবার সেদিন রাতেই লিখিত অভিযোগ দিয়েছে মির্জাপুর থানায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুত্র সন্তান ফিরিয়ে না দিলে আইনের মাধ্যমে তারা ডিএনএ টেস্ট করবেন বলেও জানা গেছে।

কুমুদিনী হাসপাতালের এজিএম (অপারেশন) অনিমেশ ভৌমিক লিটন এ বিষয়ে বলেন, প্রসূতির পরিবার যে অভিযোগ করেছেন তা সঠিক নয়।

জানা গেছে, সুমাইয়া ও আরশাদুলের গ্রামের বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার ঘাগড়াই কুরাতলী গ্রামে গ্রামে। সুমাইয়ার বোন শারমিন জানান, গত ২৬ অক্টোবর তার বোনকে কুমুদিনী হাসপাতালে প্রসূতি বিভাগে ভর্তি করা হয়। এর আগে কুমুদিনী হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রাম করা হলে চিকিৎসক ডা. পবন কুমার তাদের জানায় পুত্র সন্তান হবে। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তির পূর্বেও তারা হালিম আধুনিক হাসপাতাল এবং বাঁশতৈল ক্লিনিকে আলট্রাসনোগ্রাম করিয়েছিলেন। তিনজন চিকিৎসকই পুত্র সন্তান হবে বলে তাদের জানিয়েছেন। গত বুধবার ২৭ অক্টোবর কুমুদিনী হাসপাতালে তার বোনের সিজারের মাধ্যমে পুত্র সন্তান হয় বলে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়।

তিনি আরও জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এনআইসি (নিভির পরিচর্চা কেন্দ্র) থেকে সুমাইয়ার পরিবারের কাছে পুত্র সন্তানের পরিবর্তে কন্যা সন্তান তুলে দেওয়া হয়। সুমাইয়া ও তার পরিবার এ ঘটনা মেনে নিতে রাজি না হওয়ায় হাসপাতালে তোলপাড় শুরু হয়। 

সুমাইয়ার মামা আজিজুর রহমান ও স্বামী আরশাদুল বলেন, আমাদের পুত্র সন্তান হয়েছে এটা নিশ্চিত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী পুত্র সন্তান পরিবর্তন করে কন্যা সন্তান দিয়েছে। আমরা পুত্র সন্তানের দাবী জানিয়ে এবং কুমুদিনী হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। এছাড়া আইনের আশ্রয় নিয়ে প্রয়োজনে ডিএনও টেস্টের জন্য তারা ব্যবস্থা নেবেন।

এ ব্যাপারে কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায় ও এজিএম (অপারেশন) অনিমেশ ভৌমিক লিটন বলেন, হাসপাতালের সকল কাগজপত্রে সুমাইয়ার কন্যা সন্তান হয়েছে বলে রেকর্ড রয়েছে। ওয়ার্ডের ডাক্তার ও নার্স এমন তথ্যই দিয়েছে তাদের। তারপরও তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে কোথাও পুত্র সন্তানের কথা উল্লেখ কনেই। গৃহবধুর পরিবার ইচ্ছে করলে ডিএনএ টেস্ট করাতে পারেন।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক মো. রুবেল হোসেন বলেন, গৃহবধূর পরিবার পুত্র সন্তানের দাবি করে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। হাসপাতালেল কাগজপত্র যাচাই করে দেখা গেছে কোথাও পুত্র সন্তানের উল্লেখ নেই। কাগজপত্রে লেখা রয়েছে কন্যা সন্তান। ভুক্তভোগী পরিবার এখন ডিএনএ টেস্ট করাতে পারেন। 

ইত্তেফাক/এসএ