পুনীত রাজকুমারের মৃত্যুশোকে এক জনের আত্মহত্যা, হার্ট অ্যাটাকে আরো দুই মৃত্যু

ভারতের কন্নড় সিনেমার তুমুল জনপ্রিয় নায়ক ‘পাওয়ার স্টার’ পুনীত রাজকুমারের মৃত্যুর খবরে শোকাতুর দেশটির বিনোদন অঙ্গন। মাত্র ৪৬ বছর বয়সে শুক্রবার জিমনেসিয়ামে ব্যায়াম করার সময় হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান এই সুপারস্টার। এই তারকার মৃত্যু কিছুতেই যেন মেনে নিতে পারছেন না তার ভক্তরা। প্রিয় অভিনেতার চিরবিদায় সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন এক অন্ধভক্ত। আরেক ভক্ত আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এছাড়া হূদেরাগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরো দুই জন।

ইন্ডিয়া ডটকম, নিউজ ১৮-সহ বিভিন্ন ভারতের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পুনীতের অন্ধভক্ত কর্ণাটকের বাসিন্দা রাহুল গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি আত্মহত্যা করার আগে নিজের ঘরে পুনীত রাজকুমারের ছবি ফুল দিয়ে সাজিয়ে শ্রদ্ধাও জানিয়েছেন।              কর্ণাটকের চামরাজনগর জেলার হানুর তুলকের মারুরু গ্রামের ৩০ বছর বয়সী মুনিয়াপ্পা নামে এক যুবক হূদেরাগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তার ঘরে স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। গ্রামবাসীরা জানান, পুনীত রাজকুমারের ভক্ত ছিলেন মুনিয়াপ্পা। তার এমন কোনো সিনেমা নেই যে তিনি দেখেননি। প্রিয় তারকার মৃত্যুর খবর সইতে পারেননি মুনিয়াপ্পা। টেলিভিশনের সামনে বসে কাঁদছিলেন। পরে তার বুকে ব্যথা ওঠে। দ্রুত তাকে পুন্নাচি প্রাইমারি হেলথ সেন্টারে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সকেরা মুনিয়াপ্পাকে মৃত ঘোষণা করেন। বেলাগাভির শিন্ডোল্লি গ্রামের আরেক ভক্ত পুনীতের মৃত্যুর খবর শুনে হূদেরাগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।  উড়ুপি জেলার সালিগ্রামারের ৩৫ বছর বয়সি এক অটোরিকশাচালক পুনীতের মৃত্যুর খবর শুনে নিজের অটোরিকশার ওপর হাত দিয়ে জোরে আঘাত করেন। এতে তার হাত কেটে গিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। তাকে প্রাইমারি হেলথ সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আরো অনেকেই নিজ দেহে আঘাত করে জখম হয়েছেন বলে জানা যায়।

পুনীত রাজকুমারের মৃত্যুতে কর্ণাটক সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। বেঙ্গালুরু ও তামিলনাড়ুতে ৩১ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত মদের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে পুনীতের মরণোত্তর চক্ষুদান কার্যক্রম শেষ হয়েছে। অভিনেতার ইচ্ছে অনুসারে চিকিত্সকদের একটি দল তার মৃত্যুর পর ছয় ঘণ্টার মধ্যে চোখ সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পাদন করেছেন। পুনীত রাজকুমারের বাবা কিংবদন্তি অভিনেতা ডা. রাজকুমার ১৯৯৪ সালে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার পুরো পরিবার মরণোত্তর চক্ষুদান করবেন।

গতকাল শনিবার বিকেলে আঞ্চলিক চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক পুনিতের দেহ রাখা হয় কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে। সেখানে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। শিশু অভিনেতা হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন পুনীত রাজকুমার। ১২টি সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন, পেয়েছেন ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। ২০০২ সালে ‘আপ্পু’ সিনেমায় অভিনয় করে কন্নড় সিনেমায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান তিনি। প্রায় ২৯টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন পুনীত রাজকুমার। ছিলেন কন্নড় চলচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত নায়ক।