গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কয়েকটি গ্রামে দেড়মাস ধরে রহস্যময় প্রাণীর আক্রমণের ঘটনা ঘটছে। এতে এই পর্যন্ত এক জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১২ জন। এসব এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কৃষকরা মাঠে যেতে পারছেন না। বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পাচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা। তবে কী ধরনের প্রাণী এই আক্রমণ চালাচ্ছে সে সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না। এই প্রাণীটির ভয়ে রাতেও ঘুমাতে পারছেন না স্থানীয়রা। ফসলের মাঠ বা আশপাশে গেলে লাঠি হাতে দলবদ্ধ হয়ে চলাচল করছেন তারা। এছাড়া গ্রামবাসী রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। উপজেলার তালুক কেঁওয়াবাড়ী, হরিণাথপুর, কিশামত কেঁওয়াবাড়ী, খামার বালুয়া, দুলালের ভিটা ও তালুকজামিরা গ্রামে এই আক্রমণের ঘটনা ঘটছে। আক্রান্তদের দাবি, প্রাণীটি দেখতে কুকুর কিংবা শিয়ালের মতো, শরীরে রয়েছে ডোরাকাটা দাগ। প্রাণীটির সামনের পা দুটি ছোট। মাথা ও লেজ আকারে বড়। সুযোগ পেলেই এলাকার ঝোপ-ঝাড়, জঙ্গল ও ধানখেত থেকে বেরিয়ে আক্রমণ করছে। আহতরা হলেন, হরিণাথপুর গ্রামের আমরুল ইসলাম (৩১), সুমি বেগম (৪০), তালুক কেঁওয়াবাড়ী গ্রামের শেফালী বেগম (৩০) ও মুক্তা বেগম (২৮), কিশামত কেঁওয়াবাড়ী গ্রামের আফছার আলী (৩৫), ব্রাহ্মভিটা গ্রামের হামিদ মিয়া (৪০), হরিণাথপুর গ্রামের মনজিলা বেগম (৫০), তালুক কেঁওয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মো. রাব্বী শেখ (১০)। বাকিদের নাম জানা যায়নি।
রহস্যময় এমন প্রাণীর আক্রমণে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম ফেরদৌস সরকার রুকু (৫৬)। তিনি উপজেলার হরিণাথপুর গ্রামের মসজিদের ইমাম। তার ভাই সাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, দেড় মাস আগে একদিন মাঠে ঘাস কাটতে গেলে হঠাত্ হামলা করে অচেনা এই প্রাণীটি। হাতে থাকা কাস্তে দিয়ে উপর্যুপরী আঘাত করেও প্রাণীটির হাত থেকে রক্ষা পাননি তিনি। তার চিত্কারে আশপাশের লোকজন চলে আসলে প্রাণীটি পালিয়ে যায়। হামলায় তার নাক ও পশ্চােদশের মাংস ছিড়ে ফেলে প্রাণিটি। এছাড়া শরীরের একাধিক স্থানে জখম করে। এরপর তাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে সেলাই শেষে জলাতঙ্ক ও টিটেনাস টিকা দিয়ে বাড়িতে আনা হয়। পরে আরো দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু দিন দিন তার অবস্থা অবনতি হয়ে গত ১৭ অক্টোবর রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রুবেল মিয়া জানান, ঐ১ একই দিনে আরো তিন জনের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে ঘটছে একের পর এক আক্রমণের ঘটনা।
পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান নয়ন বলেন, সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি প্রাণীটি পাগলা শেয়াল হতে পারে। শেয়াল পাগল হলে কুকুরের চেয়ে ভয়ানক হয়ে থাকে। আক্রান্তদের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাসুদার রহমান জানান, এসব গ্রামের মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। রহস্যময় অচেনা ঐ প্রাণী সম্পর্কে জানতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে।