যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোতে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্মেলনে (কপ-২৬) যোগ দিতে আজ রবিবার ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ৯টায় বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটযোগে তিনি গ্লাসগোর উদ্দেশে যাত্রা করবেন। আগামীকাল সোমবার তিনি কপ-২৬-এর মূল পর্বে ভাষণ দেবেন। গতকাল শনিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রধানমন্ত্রী এই সফরকালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ঝুঁকির মুখে থাকা ৪৮টি দেশের সংগঠন ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ)-এর বর্তমান সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল আসন্ন কপ-২৬ শীর্ষ সম্মেলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। আগামীকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী কপ-২৬-এর শীর্ষ বৈঠকে ভাষণ দেবেন। একই দিন সকালে সিভিএফ কমনওয়েলথের একটি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন। একই দিন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে একটি সভায় অংশগ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সভা-পতিত্বে ‘সিভিএফ কপ-২৬ লিডার্স ডায়ালগ’ অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত শীর্ষ বৈঠকে সিভিএফের সদস্য ও পর্যবেক্ষক দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানগণ, কপ-২৬ আয়োজনকারী দেশ যুক্তরাজ্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যোগ দেবেন। পাশাপাশি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতিসহ আরো বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাতে মিলিত হবেন।
প্রধানমন্ত্রী গ্লাসগোতে কপ-২৬ সম্মেলনে যোগদানের পর লন্ডনে যাবেন। ৩ থেকে ৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে ওয়েস্টমিনস্টার প্যালেসে যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান, বাংলাদেশ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আয়োজিত একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া তিনি লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে বঙ্গবন্ধু বিষয়ে গোপন দলিলপত্রের নতুন প্রকাশিত খণ্ডসমূহের মোড়ক উন্মোচন করবেন।
পাঁচ দিন লন্ডনে থাকার পর ঢাকা-প্যারিস সম্পর্ক উন্নয়নে আগামী ৯ থেকে ১৩ নভেম্বর ফ্রান্সে সরকারি সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি ইউনেস্কোর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। সফরকালে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তিনি জানান, সফরকালে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠককালে বিভিন্ন বিষয়ে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক ও লেটার অব ইনটেন্টে স্বাক্ষর হতে পারে।
এছাড়া ফ্রান্সের অন্যান্য মন্ত্রী ও ফ্রান্সের দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের কথা রয়েছে। পাশাপাশি ফ্রান্সের বেশ কিছু কোম্পানির প্রধানসহ শীর্ষস্থানীয় ফরাসি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা এমইডিইএফের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের অনুরোধ জানিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার নামে একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। এটা সমগ্র জাতির জন্য একটি গর্বের বিষয়। আগামী ১১ নভেম্বর প্যারিসে ইউনেস্কো সদর দপ্তরে ‘ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ফর দ্য ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক পুরস্কারটি বিজয়ী ব্যক্তি ও সংস্থাকে দেওয়া হবে।
তিনি জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিতব্য এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সশরীরে যোগ দিয়ে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দিতে পারেন। একই দিনে সাবেক ফরাসি বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক প্যাসকেল ল্যামির আমন্ত্রণে প্যারিস পিস ফোরামের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দেবেন।
আগামী ১২ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৭৫তম বার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অংশগ্রহণের জন্য ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর প্যারিসে অবস্থানকালে তার সঙ্গে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক অদ্রে আজুলের একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ফ্রান্স সফর শেষে আগামী ১৪ নভেম্বর সকালে দেশে ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।