গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) তোফাজ্জল হোসেনকে (৩৮) শনিবার সকালে গাইবান্ধা পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়েছে। সুন্দরগঞ্জে পারিবারিক মামলার এক বাদিনীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় গ্রামবাসীর নিকট আটক হওয়ার অভিযোগ ওঠায় তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গত শুক্রবার রাতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এই ঘটনা ঘটে।
নাম প্রকাশ না শর্তে কয়েক জন এলাকাবাসী জানায়, কিছুদিন আগে ঐ গৃহবধূর সৌদিপ্রবাসী স্বামীর সঙ্গে তার ভাইয়ের জমি নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। এনিয়ে ঐ গৃহবধূ সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় তার স্বামীর বড় ভাইকে আসামি করা হয়। সেই মামলার তদন্তভার পান এএসআই তোফাজ্জল হোসেন। পরে তদন্তে গিয়ে ঐ প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে এএসআই তোফাজ্জল হোসেন ঐ সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে যান। এ সময় এক প্রতিবেশী বাড়ির গোয়ালঘরে আপত্তিকর অবস্থায় তাদের দেখে ফেলেন। এ ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা তোফাজ্জলকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে তাকে বাড়ির উঠানের একটি গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে সুন্দরগঞ্জ থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে সুন্দরগঞ্জ থানাপুলিশ ও কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ গিয়ে এএসআইকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে পরিদর্শক মানষ রঞ্জন বলেন, বিষয়টি জানার পর তারা ঘটনাস্থলে যান এবং উত্তেজিত জনগণকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আবদুল্লাহিল জামান বলেন, এলাকাবাসী সন্দেহজনকভাবে এএসআই তোফাজ্জল হোসেনকে আটকে রাখে। পরে তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গাইবান্ধা পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ইত্তেফাক/এমআর