শীত মৌসুম পুরোপুরি শেষ না হতেই উত্তাপ ছড়াচ্ছে সবজি বাজারে। গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের সবজির দামই বেড়েছে। শুধু তাই নয়, দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে পেঁয়াজ, মুরগী, গরুর মাংস, মসুর ডাল ও মাছের দাম।
শুক্রবার রাজধানীর কাওরানবাজার, নিউমার্কেট ও তুরাগ এলাকার নতুন বাজারে খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দামের এ চিত্র পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শীত মৌসুমে শীতকালীন সবজির ব্যাপক সরবরাহ থাকায় দাম থাকে সহনীয়। আর এর প্রভাব পড়ে অন্যান্য নিত্যপণ্যের ওপরও। কারণ, এ সময় ভোক্তাদের একটি বড় অংশ সবজির ওপর নির্ভরশীল থাকে। এখন শীত মৌসুম শেষের দিকে হওয়ায় সবজির দাম যেমন বাড়তি তেমনি অন্যান্য নিত্যপণ্যের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে।
গত সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজের কেজি ২৫ টাকা বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে তা ৫ টাকা বেড়ে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২২ থেকে ২৫ টাকায়। তবে রাজধানীর খুচরা বাজারে দাম বাড়লেও মোকামে পেঁয়াজের দাম বাড়েনি বলে ইত্তেফাককে জানিয়েছেন পেঁয়াজ আমদানিকারক মোরশেদুর রহমান। শুক্রবার তিনি বলেন, গত ৫/৬ দিন ধরে পেঁয়াজের দর একই রয়েছে। বর্তমানে দেশের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানিকৃত ভারতীয় পেঁয়াজ মানভেদে ১১ থেকে ১৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি জানান।
রাজধানীতে পেঁয়াজের দাম বাড়তি প্রসঙ্গে তুরাগ এলাকার মুদি দোকানি সাদ্দাম বলেন, এবার মৌসুমে পেঁয়াজের দাম কম ছিল। এখন বাজারে নতুন দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কমছে। ফলে দাম বাড়তির দিকে।
বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে আলু, বেগুন ২৫ থেকে ৩০ টাকা, শালগম, পেঁপে ২০ থেকে ২৫ টাকা, বিচিসহ শিম ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, বিচিছাড়া ২০ টাকা, করল্লা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, পাকা টমেটো ২০ থেকে ৩০ টাকা, কচুর লতি ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি ফুলকপি, বাঁধাকপি ২০ থেকে ২৫ টাকা, লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি।
এদিকে সবজির পাশাপাশি দাম বেড়েছে মাছের। প্রায় সব ধরনের মাছের দামই কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। শুক্রবার বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাছের মধ্যে তেলাপিয়া ১৬০ থেকে ২২০ টাকা, পাঙাশ ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, রুই ২৬০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাতল ২৮০ থেকে ৪০০ টাকা, টেংরা ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাবদা ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
দাম বেড়েছে মাংসেরও। গত সপ্তাহেও গরুর মাছ ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে ৫২০ টাকার নীচে অনেক দোকানিই বিক্রি করছেন না । এছাড়া ব্রয়লার মুরগী কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা, লেয়ার মুরগী ১৯৫ থেকে ২০৫ টাকা, পাকিস্তানি মুরগী ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ‘পাকিস্তানকে একঘরে করে দেওয়া হবে’
মুরগীর দাম বাড়ার প্রসঙ্গে কাওরানবাজারের মুরগী ব্যবসায়ী মাসুদ বলেন, শীতের শেষের দিকে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এজন্য মাছ-মাংসের দাম কিছুটা বাড়তি থাকে। এছাড়া সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মাছ-মাংসের বাজারে।
এদিকে, বাজারে নেপালি মসুর ডালের দাম বেড়েছে। কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসেবেও দাম বাড়ার এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ডালের মধ্যে দেশি মসুর ডাল ৮৫ থেকে ৯৫ টাকা, তুরস্ক/কানাডার মসুর ডাল ৫৫ থেকে ৭০ টাকা, মুগ ডাল ৮০ থেকে ১৩০ টাকা, এ্যাংকর ডাল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা ও ছোলা ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এমআই