অর্থনীতিতে সম্ভাবনাময় ফুলের বাজার

বসস্ত উত্সব ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে অন্যবারের মতো এবছরও বিপুল পরিমাণ ফুল সারাদেশে সরবরাহ হয়েছে। দিনে দিনে দারুণ সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে বাংলাদেশের ফুলের বাজার। এক্ষেত্রে অনেক প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে বেশ এগিয়ে গেছে আমাদের পুষ্প বাণিজ্য। দেশের অভ্যন্তরে তো বটেই বিদেশেও বাংলাদেশের ফুলের বাজার বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে পৃথিবীর ২০টি দেশে বাংলাদেশের ফুল এবং ফুলজাত পণ্য রফতানি হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী পুষ্প বাণিজ্যের দারুণ প্রসার ঘটেছে, যা ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছে। দ্রুত বিকশিত হচ্ছে ফুলের বাজার। গত কয়েক দশক ধরেই পুষ্পশিল্পে দারুণ বিপ্লব ঘটেছে। ৫০ এর দশকে বিশ্বব্যাপী পুষ্প বাণিজ্যের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও কম ছিল। ১৯৯৪ এ এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্বজুড়ে পুষ্প বাণিজ্যের দারুণ প্রসারের প্রকাশ সাম্প্রতিক কয়েক বছরে বাংলাদেশেও সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এখানেও ফুল চাষ, উত্পাদন এবং এর বাজারজাতকরণে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ২০১১ সালে বাংলাদেশে প্রায় ২৫০০ একর জমিতে ফুলের চাষ হতো, যা ২০১৪ তে বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার একশ’ তেতাল্লিশ দশমিক ৬৭ একরে।

প্রতিদিন নাগরিক জীবনে চাহিদা মাফিক ফুলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য বড় বড় শহরগুলোতে ফুলের বিরাট পসরা সাজিয়ে বসছেন ফুলের ব্যবসায়ীরা। গড়ে উঠেছে অসংখ্য পুষ্পবিপণী। প্রতিদিন যেখানে বিরাট অংকের অর্থের বাণিজ্য হচ্ছে। রাজধানী ঢাকার শাহবাগ, বেইলি রোডসহ আরো কয়েকটি জায়গায় অসংখ্য দোকান নিয়ে গড়ে উঠেছে বিরাট ফুলের বাজার। ক্রেতাদের রুচি ও চাহিদা অনুযায়ী ফুলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে ফুলের ব্যবসায়ীরা গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্পাদিত নানা জাতের ফুল এনে বিপণন করছেন।

বিভিন্ন জাতীয় দিবসগুলোতে যেমন, বিজয় দিবস, ২১ শে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস, স্বাধীনতা দিবসের পাশাপাশি ভ্যালেন্টাইনস ডে, পহেলা ফাল্গুন, পহেলা বৈশাখ প্রভৃতি দিনে উত্সব আনন্দের অনুসঙ্গ হিসেবে ব্যাপক পরিমাণে ফুলের  ব্যবহার হচ্ছে। এসব দিনে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া, খুলনার মতো বড় বড় শহরগুলোতে তো বটেই অন্যান্য শহর এমনকি মফস্বল পর্যায়েও ফুলের বিক্রি বাড়ছে। আর এভাবেই দেশে ফুলের বাজার রমরমা থাকছে বছরজুড়েই। গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, বেলি, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, কামিনী, ডালিয়া, সূর্যমুখী, পদ্ম প্রভৃতি ফুলের বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষাবাদ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। আজকাল অনেকেই অধিক মুনাফার আশায় প্রচলিত ধান-পাট ও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য উত্পাদনের চেয়ে ফুলচাষের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।

বাংলাদেশে ফুলের চাষ ও উত্পাদন বৃদ্ধির নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এজন্য সরকারি সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিশেষ মনোযোগ জরুরি হয়ে উঠেছে। ফুলের চাষকে উত্সাহিত করতে আলাদাভাবে প্রনোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। ফুলচাষীদের জন্য সহজশর্তে বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। রপ্তানিমুখী উন্নতজাতের ফুল উত্পাদনে পর্যাপ্ত অংকের ঋণের ব্যবস্থা করা হলে এখাতের আরো বিকাশ ঘটবে সন্দেহ নেই। যারা ফুল চাষ নিয়ে দ্বিধা সংকোচের মধ্যে রয়েছেন, নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এগিয়ে আসতে পারছেন না তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতা  করতে হবে। ফুলচাষের নানা কলাকৌশল, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণে অধিক পরিমাণে উন্নতজাতের ফুল উত্পাদন,   উত্পাদিত ফুল সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, রপ্তানি ইত্যাদি বিষয়ে আগ্রহী চাষী, ফুল ব্যবসায়ী, রপ্তানিকারকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যেহেতু ফুল দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, নির্ধারিত গন্তব্যে দ্রুত ও যথাসম্ভব কম সময়ের মধ্যে ফুলের চালান পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।