পারিবারিক ব্যবসায় এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

বহুকাল ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পারিবারিক ব্যবসার সফল প্রসার হচ্ছে। ব্যবসা উন্নয়নের জন্য ব্যক্তি নির্ভরশীলতা ক্রমশঃ কমিয়ে পারিবারিক ব্যবসা পদ্ধতি আরো দৃঢ় হচ্ছে। বাংলাদেশেও পারিবারিক ব্যবসার সফলতা লাভ করছে এবং ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্থান করে নিয়েছে। এ দেশে অনেক উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল ব্যবসার অপার সম্ভাবনা আছে। বিশ্বের বহু দেশের চেয়ে বাংলাদেশে পারিবারিক ব্যবসা বেশি বিস্তৃতি লাভ করছে। এদেশে পরিবারকেন্দ্রিক ব্যবসা অনেক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। 

যুক্তরাজ্যভিত্তিক অডিট ও পরামর্শ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান প্রাইসওয়াটারহাউজকুপার্সের (পিডব্লিউসি) সম্প্রতি এক জরিপে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো গত এক বছরে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। আগামীতেও প্রবৃদ্ধির এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। পিডব্লিউসি দুই বছর পরপর পারিবারিক ব্যবসায়ের ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও বাংলাদেশের উপর এ ধরনের প্রতিবেদন এবারই প্রথম প্রকাশ হলো।

বিশ্বজুড়েই পারিবারিক ব্যবসায়ের চ্যালেঞ্জ বেশি, বাংলাদেশে তা আরো বেশি। দেশের পারিবারিক ব্যবসায় পাঁচটি বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। এগুলো হচ্ছে দক্ষতার প্রশ্ন, উদ্ভাবন সক্ষমতা, অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা, জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা। তবে বাংলাদেশর পারিবারিক ব্যবসায়ের প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক গড়ের চেয়েও ভালো। গত বছর বৈশ্বিক গড় প্রবৃদ্ধি ছিল যেখানে ৩৪ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশের তা ছিল ৫৩ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ক্ষুদ্র থেকে শুরু করে বৃহত্ সবধরনের প্রতিষ্ঠানেই পারিবারিক ব্যবসা আছে। এ ধরনের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি অভিন্ন প্রবণতা আছে। তা হলো বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে তাল মেলাতে ক্রমাগত বিকশিত ও রূপান্তরিত হওয়া। বড় প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ব্যবসা সক্রিয় রাখতে এ প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই প্রাতিষ্ঠানিক এবং সৃজনশীল হতে বাধ্য হয়েছে। বাংলাদেশের পারিবারিক ব্যবসার চ্যালেঞ্জগুলো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের চেয়েও বেশি। দক্ষতার প্রশ্নে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ যেখানে ৬০ শতাংশ, বাংলাদেশে তা ৬৬ শতাংশ। প্রতিবেদনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও বলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ব্যবসায়ের পেশাগত দিক, সাইবার নিরাপত্তা, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, অর্থের সংস্থান, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, দুর্নীতি, উত্তরাধিকার ইত্যাদি। তবে হতাশার কথা রয়েছে যেমন আশার বাণীও রয়েছে। জরিপে অংশ নেয়া ব্যবসায়ীদের ৫০ শতাংশই মনে করেন, ভবিষ্যতে তারা নতুন নতুন রপ্তানি বাজারের দিকে যাবেন।

দেশ গঠনের পাশাপাশি বাংলাদেশের পারিবারিক ব্যবসাগুলো সম্পদ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আনয়নে ভূমিকা রাখছে। উত্তরাধিকার নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত পরিকল্পনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে দেশে তাদের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ও উদ্যোক্তাসুলভ সক্রিয়তা বজায় রাখা সম্ভব হবে। নতুন প্রজন্মের হাত ধরে প্রতিষ্ঠানগুলো আরো গতিশীল হবে। এরপরেও দক্ষতা, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, জ্বালানি ও কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো ব্যবসা পরিচালনার জন্য চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতি গঠন, কমংসংস্থানসহ সম্পদ তৈরিতে বাংলাদেশের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পারিবারিক ব্যবসায় ব্যক্তি নির্ভরশলিতা কমিয়ে এনে পদ্ধতিগতভাবে আরো শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যাতে করে ব্যবসা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে। পারিবারিক ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে সমন্বিত নিয়ম তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশে অনেক উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল ব্যবসার সম্ভাবনা আছে। বিশ্বের অনেক দেশের চেযে বাংলাদেশের পারিবারিক ব্যবসা অনেক শক্তিশালী অবস্থানে আছে। তবে পদ্ধতিগতভাবে বাংলাদেশের পারিবারিক ব্যবসা আরো দৃঢ় হওয়ার সুযোগ আছে।