কোনো মানুষ যেন থানায় এসে আইনী সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির বারবার এমন কঠোর হুশিয়ারী সত্বেও কেরানীগঞ্জ মডেল থানা থেকে আদালতের চাওয়া প্রতিবেদন ৬ মাসেও পাননি আমেনা বেগম।
মামলার বাদী অভিযোগ করেন, গত ৬ মাস ধরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ধর্মশুর এলাকার তার ২৬ শতাংশ জমির মধ্যে ৩ শতাংশ জমি প্রতিবেশী করিম মিয়া জবর দখল করে নেয়। এ ব্যাপারে তিনি ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করিম মিয়াসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। যার পিটিশন মামলা নম্বর ৬২/২০১৮, স্মারক নং- ৬৯১/২০১৮।
ঐ মামলার ফাইলিং আইনজীবী বীথিকা মুখার্জি জানান, ‘দীর্ঘ ৬ মাসে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ পারভীন বাদী আমেনা বেগমের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার জন্য ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ ও ৯ জানুয়ারি ২০১৯ দুইবার কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় আদেশনামা পাঠান। কিন্তু মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শাকের মুহাম্মদ যুবায়ের বিষয়টি আমলে না নিয়ে ভুক্তভোগী আমেনা বেগমকে বিভিন্ন অজুহাতে ০৬ মাস ধরে ঘুরাচ্ছে।’
মামলা বাদী আমেনা বেগম আরো অভিযোগ করেন, ওসি ও দারোগা তার প্রতিপক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মডেল থানার দ্বিতীয় দফা স্মারক নম্বর ৩৩৫ তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০১৯ আদালতে প্রতিবেদনটি এখনও থানা পুলিশ দাখিল করছে না।’
বাদী পক্ষের আইনজীবী বীথিকা মুখার্জি আরো জানান, ‘২৭ ফেব্রুয়ারির আগে মডেল থানা আমেনা বেগমের প্রতিবেদনটি না পাঠালে আদালত তার ৬২/২০১৮ মামলাটি প্রতিবেদন না পাওয়ার কারণে খারিজ করে দিবে। থানার গড়িমশির কারণে বাদী তার ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন।’
এ ব্যাপারে মডেল থানান ওসি শাকের মুহাম্মদ যুবায়েরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘পুলিশ তদন্তের জন্য এসআই সাদিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।’
আরও পড়ুনঃ মাগুরায় আগুনে বাড়ি পুড়ে শিশু নিহত
মামলার অভিযোগে জানা যায়, ‘গত ৩ মে ২০১৮ তারিখে মডেল থানার ধর্মশুর মৌজায় আমেনা বেগমের ২৬ শতাংশ জমি থেকে প্রতিবেশী করিম মিয়া ঐ জমি থেকে ৩ শতাংশ জমি জবর দখল করে বাড়ি তৈরি করে। ঘটনা নিয়ে বাদী আমেনা বেগম করিমসহ ১০ জনকে বিবাদী করে কার্যবিধি ১৪৫ ধারায় মামলাটি দায়ের করে। এলাকার অনেকেই অভিযোগ করেন থানা পুলিশ ভুক্তভোগীদের পক্ষ না নিয়ে ভূমি দস্যুদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে তাদের পক্ষেই থাকে। এতে করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অনেক মানুষই থানা থেকে ন্যায় বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’
ইত্তেফাক/নূহু