এক.
‘আখ মারে ও লড়কি আখ মারে’ গানটি শুরু হতেই রিমোট দিয়ে টিভি বন্ধ করে দিলেন মন্ত্রী। হাজার হলেও মেজর জেনারেল রাহাত খান (অব.) একজন সরকারি কর্মকর্তা। তাঁর অধীনেই চাকরি করেন।
‘বুঝলে রাহাত, কেউ একজন আমাদের আখ মারছে।’
খুক খুক করে কাশলেন রাহাত খান। বন্ধু হলেও তার সামনে বসে আছেন একজন মন্ত্রী।
‘বুঝলাম না।’
‘এতক্ষণ যে মুভিটি দেখলে সেই মুভিটির নাম সিমবা। নায়ক ধর্ষণকারীদের ধরে ধরে মেরে ফেলে। আমাদের দেশেও কেউ একজন সিমবা হতে চাইছে। নিজের নাম রেখেছে হারকিউলিস।’
বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ কাটল।
‘বুঝলে রাহাত, মাঝে মাঝে মনে হয় মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়ে বনবাসে চলে যাই।’
‘কেন! কেন!!’
‘এমনিতেই বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়ে দেশে বিদেশে খুব চাপে আছি। এরমাঝে কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে ধর্ষণকারীদের মেরে ফেলতে চায় তাহলে আমার কী অবস্থা হয় ভেবে দেখ।’
‘আমাকে কী করতে বলো?’ জানতে চাইলেন রাহাত খান।
‘হারকিউলিসকে খুঁজে বের করো। তুমি তোমার বেস্ট অ্যাজেন্টদের কাজে লাগাও। হারকিউলিসকে আমার চাই-ই চাই।’ মন্ত্রী অর্ডারের সুরে বললেন।
দুই.
‘চাই! চাই!! চাই!!!’ সোহানা প্রায় চিত্কার করে বলল।
বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের দুর্ধর্ষ স্পাই মাসুদ রানা হাসল।
সম্প্রতি রিহ্যাব ফেয়ারে গিয়ে রানা একটা ফ্ল্যাট বুকিং করেছে। অফিসের কাউকে বলেনি। অফিসের বাইরে টিনা, মিনা, জিনা, রাশিদা, মিমি প্রমুখ বান্ধবীদের শুধু বলেছে আলাদা আলাদাভাবে। সোহানাকেও আলাদাভাবেই বলল একা পেয়ে।
‘ট্রিট চাই।’ সোহানা সাথে সাথে বলল।
‘ট্রিট নেবে? কোথায় নেবে?’ দুষ্টুমি ভরা হাসি উপহার দিল রানা।
‘মানে?’
‘ঢাকায় নেবে না লন্ডনে নেবে?’
‘লন্ডনে ট্রিট দেবে?’ চোখ সরু করে জানতে চাইল সোহানা।
‘তুমি চাইলে নিতে পার। আমি পরশু লন্ডন যাচ্ছি। বললে বিমানের টিকিট কনফার্ম করে দিতে পারি।’
একমুহূর্ত চিন্তা করল সোহানা। তারপর বলল, ‘দাও কনফার্ম করে। অনেকদিন ছুটি কাটাই না। ঘুরেই আসি তোমার সাথে।’
রানা পকেট থেকে ফোন বের করে টিকিট কনফার্ম করল।
সোহানাকে দেখাল ও টিকিট কনফার্মের মেসেজ। বলল, ‘চলো, আরেকবার হানিমুন করে আসি।’
তখনই জোরালোভাবে বেজে উঠল ইন্টারকম।
‘এমআর নাইন, এখনই আমার রুমে এসো। আর কথাবার্তা বলার সময় একটি খেয়াল করে দেখবে—ইন্টারকমের সুইচে চাপ পড়েছে কি না?’
দাঁত দিয়ে জিব কাটল রানা—এই রে ভুল হয়ে গেছে!
বুড়ো মনে হয় সব শুনে ফেলেছে।
তিন.
‘ভালো করে আমার কথা শোনো, রানা।’ ধমকে উঠলেন রাহাত খান।
রানা বসের চোখের আড়ালে মাত্র মেসেঞ্জার খুলেছে, অমনি ধোঁয়ার আড়াল থেকে ধমক ভেসে এলো।
‘জি, স্যার।’
‘মন্ত্রী আমাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। বললেন, তোমার বিসিআই তো বিলুপ্ত করার সময় চলে এসেছে।’
‘অ্যাঁ!’ মুখ দিয়ে এটাই বের হলো রানার।
‘ভেবে দেখ, এই বয়সে চাকরি হারালে আমি খাব কী, করব কী?’
‘আমাকে কী করতে হবে স্যার?’
‘তুমি যেভাবে পার হারকিউলিসকে খুঁজে এনে দাও।’
চার.
গিলটি মিয়াকে খুঁজে খুঁজে হয়রান হয়ে গেল রানা। সে নাকি গেছে বিপিএল ফাইনাল খেলা দেখতে। আসলে যে গিলটি মিয়া টিকিট ব্ল্যাক করতে গেছে, সেটা বোঝে রানা। চারমাস ধরে রানা এজেন্সি কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না। গিলটি মিয়া টিকিট ব্ল্যাক করবে না তো কী করবে।
ফোনে অনেকবার চেষ্টা করল রানা। ধরল না গিলটি মিয়া।
শেষে মেসেঞ্জারে লিখে পাঠাল, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে হারকিউলিস কোথায় আছে তা খুঁজে বের করে জানাবে। আমি লন্ডন গেলাম।’
পাঁচ.
লন্ডন।
সাতদিন পর।
মাঝরাত।
মাত্র দু চোখ জুড়ে ঘুম নেমে এসেছে। এমন সময় রানার মোবাইল বেজে উঠল।
একবার না।
কয়েকবার।
ঘুম জড়ানো চোখে ফোন ধরল রানা।
‘হারকিউলিসের খবর কী?’ ওপাশ থেকে সোহেলের কণ্ঠ ভেসে এলো।
‘কোন হারকিউলিস?’
‘বারে, ভুলে গেছিস। বস তোকে বারবার হারকিউলিসকে খুঁজে দিতে বললেন না।’
‘ও। এই ব্যাপার। আমি তো মনে করেছি, কেসটা সলভ হয়ে গেছে।’
‘হবে কীভাবে। তুই রিপোর্ট দিয়েছিস?’
‘আরে, রিপোর্ট তো গিলটি মিয়ার কাছ থেকে আমি কালই পেয়েছি। হারকিউলিস কোথায় সে তো প্রতিটি সংবাদপত্রেই ছাপা হয়েছে। তোরা যে দেশে থাকিস সে দেশের সংবাদপত্রই পড়িস না। আশ্চর্য!’
‘পড়িনি। ঠিক আছে। এবার বল হারকিউলিস কোথায়?’
‘কোথায় আবার। মাছরাঙায়।’
‘মাছরাঙা! এটা আবার কোন জায়গা?’
‘জায়গার নাম হবে কেন? এটা হলো টিভি চ্যানেলের নাম।’ হাসল রানা।
‘হারকিউলিসের সাথে টিভির আবার কী সম্পর্ক?’
‘ধুত্তর! তুই দেখি কিছুই বুঝিস না। মাছরাঙা টিভি চ্যানেলে প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় জনপ্রিয় মার্কিন টিভি সিরিজ “হারকিউলিস” বাংলা সাবটাইটেল করে দেখাবে। দেখিস। ভালো লাগবে।’