টি ক লু ভা ই য়ে র ট্র্যা জে ডি

টিকলু ভাই। কৃপণের সর্বোচ্চ লেভেলে যাকে স্থান দেওয়া যায়, তিনি হলেন সেই টিকলু ভাই। সম্প্রতি ১৩-১৪ ফেব্রুয়ারি দিন তার জন্য এক বহু স্মৃতিময় দিন হিসেবে কেটে গেছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি পহেলা ফাল্গুন। লাল শাড়ি পরে টিকলু ভাইয়ের একমাত্র জিএফ সেদিন তার হূদয় ক্ষত করে লাল করে দিয়েছে। সেদিন পুরো দিন এদিক সেদিক ঘুরে ঘুরে আর শেষ বেলায় রেস্টুরেন্টে গিয়ে টিকলু ভাইয়ের পকেট ভালোভাবেই কেটে দিয়েছিল।

একমাত্র জিএফ, ভালোবাসার মানুষ। তাই সেদিন টাকা খরচ করতে তিনি না করতে পারেনি। তাই বলে যে মন থেকে টাকা খরচের বেলায় খুব উত্ফুল্ল ছিলেন তাও না। টিকলু ভাইয়ের জিএফ আবার ছিলেন সেলফি পাগলী। তাই সন্ধ্যা শেষে যখন দিনের সব সেলফি ফেসবুকে আপলোড দেয়, তখন রাতের বেলা বন্ধুরা তা দেখে ‘চাচি কে দেখাব’ বলে টিকলু ভাইয়ের পকেট দ্বিতীয় দফায় আবার কাটেন।

মধ্যরাতে কিপ্টুস টিকলু ভাই দিনের সব ট্র্যাজেডির কথা ভেবে ভেবে কান্নায় বালিশ ভিজিয়েছেন। আজকের দিনটি করুণভাবেই হতাশ করেছে তাকে। সাথে ভীতও হয়েছেন, পাছে ১৪ তারিখ কত খরচ হয় তা ভেবে। এমনি ১৪ তারিখ মানে ডাকাতদের দিন, সেদিন জিএফসহ বের হলে ১ টাকার জিনিস ১০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়।

 

চিন্তায় চিন্তায় ঘুম হচ্ছে না উনার। এরপর ভেবে একটি আইডিয়া বের করলেন। জিএফকে কাল আর রেস্টুরেন্ট আর পার্কে নয়। বইমেলায় নিয়ে যাবেন। খরচ কম হবে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে ফোন দেন জিএফকে

—আজ তোমাকে স্পেশাল জায়গায় নিয়ে যাব।

—কোথায়

—বই মেলায়।

—তবে আমি তো বই কম পড়ি।

—সমস্যা নাই। ভালোবাসা দিবসের দিন জ্ঞানের ভালোবাসায় পড়বা। আর ওইখানে গেলে তুমি সেলিব্রিটি লেখকদের সাথে সেলফি ও তুলতে পারবা।

—আচ্ছা।

বিকালে জিএফকে নিয়ে তিনি বইমেলায় যান।

ভাবলেন ৩০০-৪০০ টাকায় আজ কাজ হয়ে যাবে।

কিন্তু দিন শেষে তাও হলো না। উল্টো তার খরচ তিনগুণ চারগুণ হলো।

কোনো লেখক দেখলেই তার জিএফ ছবি আর অটোগ্রাফ নিতে ছুটে গেল। তবে এইভাবে না, চক্ষু লজ্জার জন্য সেই লেখকের বই কিনেই লেখকের কাছে গেলেন। এইভাবে ৬-৭টা বই কিনল তার জিএফ। শেষমেশ সন্ধ্যার পর মাথাব্যথার নাম করে জিএফকে নিয়ে মেলা থেকে বেরিয়ে আসেন।