পৌষ মাস সর্বনাশ, কেউ চায় বারো মাস। শীতকালে ব্যাচেলরের নিরিখে কথাটা একদম সত্য। এ নিয়ে গর্ব করা যায়। আমার মতো হাজারও ব্যাচেলর তার প্রমাণ পেয়েছেন। যারা ব্যাচেলর জীবন থেকে বহিষ্কার হয়েছেন, তারা নাও মানতে পারেন। না মানলেও কোনো অসুবিধা নেই। ব্যাচেলর আরাম-আয়েশের নিত্যসঙ্গী হতে চায়। প্রয়োজনে বিশ্বযুদ্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে। অন্তত এতটুকু সাহস নিয়ে চলতে হয়। নইলে অশান্তির আগুনে জ্বলতে হয়। বছরের আর কোনো ঋতুতে খেয়েদেয়ে এত শান্তি নেই। শীতকাল এলেই মনের অজান্তে গেয়ে উঠি—বড় সাধ জাগে একবার দেখিনি তোমায়, কতকাল দেখিনি তোমায়...।
যারা ব্যাচেলর জীবন পার করেছেন, তারা শীতকালের সুবিধা অত বেশি উপলব্ধি করতে পারেন না। আমরা ব্যাচেলর গ্রুপের সদস্য। শীতকাল আমাদের প্রিয় ঋতু। এর বহুবিধ কারণ আছে। অত শত কারণ ব্যাখ্যা করার মোটেও ইচ্ছে নেই। তবে একটি কারণ ব্যাখ্যা না করলে প্রিয় ঋতুকে কেউই সাপোর্ট করবে না। ব্যাচেলরের প্রথম ও প্রধান সুবিধা— একদিনের রান্না প্রয়োজনে সাতদিন পরও খাওয়া যায়। যতদিন যায়, তত স্বাদ বাড়ে। বারবার রান্নার অহেতুক ঝামেলা পোহাতে হয় না। সময় সাশ্রয় করা যায়। সময়টা সহজেই অন্য কাজে লাগানো যায়। বিশ্বাস না হলে একবার সেই রান্না খেয়ে দেখুন। নিজের সুনাম আর নিজে করব না। আমরা প্রতিদিনই প্রমাণ পাই।
ব্যাচেলরদের চাকরি না থাকলেও শীতের সকালে ফ্রি টেনশনে রোদ পোহাতে পারি। সূর্যের হাসিমাখা মুখ দেখে দিনটা ভালোয় কেটে যায়। এমন দিনে দূর কোথাও হারিয়ে যাই। যেখানে বিরহের কুয়াশা নেই, একমুঠো ক্লান্তি নেই। এমন শান্তি শীতকাল ছাড়া আদৌ কী সম্ভব? শীতের ফুরফুরে হিমেল হাওয়ায় মনটা উড়ে বেড়ায়। যত শীত পড়ে, মনটা তত নড়েচড়ে। নিজেকে সারা পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মনে হয়। অনেকেই সুখী মানুষ খোঁজে। কিন্তু পায় না। তাদের বলছি, ব্যাচেলদের সুখী মানুষ হিসেবে গণ্য করতে পারেন না।
শীতকাল বিদায় হলে ব্যাচেলরের তিন-চারগুণ পেরেশানি বেড়ে যায়। কারণ, শীতকালের জন্য এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। মনে মনে ভয় জাগে, তার আগে যদি ব্যাচেলর জীবন শেষ হয়! তখন তো আর সেই সুবিধা পাব না। সুবিধা থেকে অনায়াসে বঞ্চিত হতে চাই না। ঘরে বউ থাকা মানেই প্রতিদিন তিন বেলা গরম গরম টাটকা রান্নার আয়োজন। এত্ত সব আয়োজন করার সামর্থ্য সবার থাকে না। বউকে মুখ ফুটে কিছু বলা যায় না। সাহস করে বললেও বউ বাপের বাড়ি যাওয়ার আইন জারি করে। তখন মনে হয়—ব্যাচেলর জীবনই উত্কৃষ্ট জীবন।
কনইল, নওগাঁ