খ্যামিমানদের ঠাট্টাবোধ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মজার ঘটনা

একবার রবীন্দ্রনাথ জাহাজে করে লন্ডন থেকে দেশে ফিরছিলেন। বিশ্বকবির উপস্থিতি টের পেয়ে অনেকেই তার সঙ্গে দেখা করতে আসে। এর মধ্যে একজন বাঙালি লোক ছিল যিনি দীর্ঘদিন ইংল্যান্ডে বসবাস করছে। কবিকে দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তার দীর্ঘদিনের শখ ছিল বিশ্বকবির সঙ্গে দেখা করার। লোকটি রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে বাংলা ইংরেজি মিশিয়ে কথা বলতে লাগলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বেশ বিরক্ত হলেন। তার প্রশ্নের জবাবে বিশ্বকবি শুধু ‘হু-হ্যাঁ’ করছিলেন। লোকটি বিশ্বকবির বিরক্তির কারণ বুঝতে পেরে ইংরেজিতে কথা বলতে শুরু করলেন। এবারও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিরক্তি প্রকাশ করতে লাগলেন। লোকটি খুব বিনয়ের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বললেন, ‘গুরুজি, দীর্ঘদিন ইংল্যান্ডে থাকার কারণে বাংলাটা প্রায় ভুলে গেছি।’ রবীন্দ্রনাথ খুব বিরক্তি নিয়ে বললেন, ‘বাংলা ভুলে গেছ এতে আমার কোনো দুঃখ নেই। কিন্তু ইংরেজিটাও তো ভালো করে শিখতে পারলে না।’ কবির কথা শোনে লোকটি ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল।

কাজী নজরুল ইসলামের

মজার ঘটনা

শৈলেন নামের এক বাল্যবন্ধু ছিল কবি কাজী নজরুল ইসলামের। শৈলেনের একটা চা দোকান ছিল। কবি প্রায়ই সেখানে বসে চা খেতেন আর আড্ডা দিতেন। কবি চায়ের বিল না দিয়ে প্রতিদিন নানা কৌশল করে শৈলেনের কাছ থেকে চা খেয়ে নিতেন। একদিন কবি দেখলেন আর কোনো কৌশল প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। তখন তিনি শৈলেনকে বললেন, ‘তুমি তো অনেক টাকা পাবে। হিসেব করে রেখো, আপাতত দু পেয়ালা চা দাও।’ শৈলেন আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘টাকার সাথে দু পেয়ালার সম্পর্ক কী?’ কবি উত্তর দিলেন, ‘আরে, লাখ পেয়ালা চা না খেলে টাকা হয় না। লাখ পেয়ালা হতে আমার এখনো দু পেয়ালা বাকি আছে।’

 

আইনস্টাইনের মজার ঘটনা

আইনস্টাইন সবচেয়ে বিখ্যাত হয়েছেন আপেক্ষিক তত্ত্বের জন্য। চারদিকে তার নাম ছড়িয়ে পড়তে লাগল। বিভিন্ন সেমিনার ও অনুষ্ঠানে তিনি আপেক্ষিক তত্ত্ব বুঝাতেন। মানুষ মুগ্ধ হয়ে তার কথা শুনতেন। তিনি বেশ ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। আজ এখানে অনুষ্ঠান তো কাল ওখানে। আইনস্টাইনের সঙ্গে থাকতে থাকতে তার গাড়ির ড্রাইভার আপেক্ষিক তত্ত্ব মুখস্থ করে ফেলেন। একদিন ড্রাইভার এসে আইনস্টাইনকে বললেন, ‘স্যার, আপনি যদি রাজি হন তাহলে আগামীতে আপনার আপেক্ষিক তত্ত্ব বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমি ব্যাখ্যা করব।’ তখন টেলিভিশন খুব বেশি ছিল না, তাই মানুষ ভালোভাবে আইনস্টাইনের চেহারাও চিনত না। আইনস্টাইন তার ড্রাইভারকে বললেন, ‘আচ্ছা, তুমি আপেক্ষিক তত্ত্বটা একটু ব্যাখ্যা করো তো।’ ড্রাইভার খুব সুন্দর করে ব্যাখ্যা দিলেন। আইনস্টাইন রাজি হয়ে বললেন, ‘আচ্ছা, ঠিক আছে। আগামীতে কোনো এক অনুষ্ঠানে তুমি আপেক্ষিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা করবে।’ যেমন কথা তেমন কাজ। একটা অনুষ্ঠানে আইনস্টাইনের চেয়ারে বসে তার ড্রাইভার আইনস্টাইন পরিচয়ে আপেক্ষিক তত্ত্বের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। আর ড্রাইভারের চেয়ারে স্বয়ং আইনস্টাইন বসে আছেন। সবাই ড্রাইভারের কথা মুগ্ধ হয়ে শুনছেন। অনুষ্ঠান শেষে কয়েকজন পদার্থ বিজ্ঞানের ও গণিতের কিছু সমস্যা সমাধানের জন্য ড্রাইভারের কাছে নিয়ে এলেন। ড্রাইভার তো এটা দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খেলেন। হঠাত্ তার মাথায় বুদ্ধি এলো। তিনি হেসে হেসে বলতে লাগলেন, ‘আরে এটা তো খুব সহজ।’ আইনস্টাইনকে দেখিয়ে দিয়ে বললেন, ‘যাও, আমার ড্রাইভারের কাছে নিয়ে যাও, সে সমাধান করে দেবে।’

 

 

শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মজার ঘটনা

শরত্চন্দ্র লেখালেখিতে সুনাম অর্জন করছিলেন। চারদিকে তার নাম ছড়িয়ে পড়তে শুরু করল। ওই সময় শরত্চন্দ্র নামের আরেকজনের আবির্ভাব হলো। একদিন শরত্চন্দ্রের সঙ্গে তার ছোটবেলার এক বন্ধুর দেখা হয়েছে। সে লোকটি শরত্চন্দ্রের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। শরত্চন্দ্র তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কি আমাকে চিনতে পারনি? আমি শরত্চন্দ্র।’ বন্ধু তাকে চিনতে পেরেও মজা করে বললেন, ‘কোন শরত্চন্দ্র?’ শরত্চন্দ্র উত্তর দিলেন, ‘আমি চরিত্রহীন শরত্চন্দ্র।’ উল্লেখ্য, ওই সময় শরত্চন্দ্রের ‘চরিত্রহীন’ উপন্যাস বেশ জনপ্রিয় ছিল।