বিজিবির-গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত শুরু

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বহরমপুর গ্রামে গরু জব্দ করাকে কেন্দ্র করে বিজিবি-গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ও তিনজন নিহতসহ ১৬ জন আহতের সঠিক কারণ বের করতে ৭ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।  

শনিবার বিকাল ৫টার সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নুর কুতুবুল আলম। তদন্ত কমিটির অন্য ছয়জন সদস্য হচ্ছেন, পীরগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, হরিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ঠাকুরগাঁও সেক্টর সদর দপ্তর বিজিবির সহকারি পরিচালক, ঠাকুরগাঁও পাবলিক প্রসিকিউটর, হরিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ, স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। 

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তদন্ত কমিটির প্রধান জানান, শনিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে তদন্ত শুরু করা হলো। ঘটনাস্থলের চারপাশ পরিদর্শন করেছে তদন্ত কমিটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এক এক করে গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সংঘর্ষে নিহত ও আহতদের পরিবারের মধ্যে যারা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তাদের সাক্ষ্য প্রথমে এবং এলাকার লোকজন যারা ঘটনা দেখেছেন তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। ঘটনাস্থলে সাক্ষ্য প্রদানে আগ্রহীদের তালিকায় নাম লেখানোর জন্য আহ্বান করেন তিনি। 


প্রথম দিনে প্রকাশ্যে আটজন সাক্ষ্য প্রদান করেন। যা কাগজে লিপিবদ্ধ করা হয়। এ সময় গোপনে সাক্ষ্য প্রদানে ইচ্ছুকদের সাক্ষ্য গোপনে নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়।

এ দিকে শনিবার সকাল ১১টার সময় বিজিবি’র প্রায় ১৫০ জন সদস্য মোটরসাইকেল ও গাড়ী নিয়ে এসে হরিপুরের বহরমপুর গ্রামের হবিবর রহমান ও জসিমকে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। তাদের ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের পর আবার পুনরায় গ্রামে দিয়ে যায় বিজিবির সদস্যরা। 

তবে ২/১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ক্যাম্পে নিয়ে যেতে এক থেকে দেড়শ জন বিজিবি সদস্যের গ্রামে আগমনে ভীত সাধারণ গ্রামবাসী।

উল্লেখ যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বহরমপুর গ্রামে গরু জব্দ করাকে কেন্দ্র করে বিজিবি সদস্য এবং গ্রামবাসীর সংঘর্ষে স্কুল পড়ুয়া ছাত্র, শিক্ষকসহ ৩ জন নিহত হয় এবং এ ঘটনায় আহত হন ১৫ জন। গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় বিজিবি বাদী হয়ে নিহতরাসহ প্রায় ২৫০ জনের বেশি গ্রামবাসীকে আসামি করে হরিপুর থানায় একটি মামলা করেছেন।

ইত্তেফাক/অনি