‘দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, জীবন বদলে যাবে’ কথাটির মধ্যে লুকিয়ে আছে তাত্পর্যময় অনেক বিষয়। আমাদের প্রজন্মের মানুষরা পারে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে তার জীবনকে বদলে ফেলতে। এ কথার সত্যতা সম্বন্ধে এখন বিজ্ঞানীমহলেও মিলছে সমর্থন।
দুই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ খু্ঁজে পাওয়া যায় আমাদের সমাজে, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ সহজেই যেকোনো পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে অপরপক্ষে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মানুষরা তা করে উঠতে পারে না। মানুষ মূলত তার আপন দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা পরিচালিত হয়। নিউরোসায়েন্টিস্টরা বলেন, মানুষের মস্তিষ্কের রয়েছে যেকোনো চিন্তাকে বাস্তবায়িত করার এক অসাধারণ ক্ষমতা।
এ বিষয়ে ডা. অ্যালেন গোল্ডস্টেইন, ডা. জন মটিল, ডা. ওয়াইল্ডার পেনফিল্ড ও ডা. ই রয় জন দীর্ঘ গবেষণার পর বলেছেন, একজন প্রোগ্রামার যেভাবে কম্পিউটারকে পরিচালিত করে, তেমনি মন মস্তিষ্ককে পরিচালিত করে। মস্তিষ্ক হচ্ছে হার্ডওয়ার আর মন হচ্ছে সফটওয়ার। নতুন তথ্য ও নতুন বিশ্বাস মস্তিষ্কের নিউরোনে নতুন ডেনড্রাইট সৃষ্টি করে। নতুন সিন্যাপসের মাধমে তৈরি হয় সংযোগের নতুন রাস্তা। বদলে যায় মস্তিষ্কের কর্মপ্রবাহের প্যাটার্ন। মস্তিষ্ক তখন নতুন দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে নতুন বাস্তবতা উপহার দেয়। নতুন বাস্তবতা ভালো হবে না খারাপ হবে তা নির্ভর করে মস্তিষ্কে দেওয়া তথ্য বা প্রোগ্রাম এর ভালো-মন্দের উপর।
বিজ্ঞানীরা বলেন, দৃষ্টিভঙ্গি দু’ধরনের—১) প্রো-অ্যাকটিভ। ২) রি-অ্যাকটিভ। জীবনকে বদলাতে হলে একজন মানুষকে প্রো-অ্যাকটিভ দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করতে হবে। একজন প্রো-অ্যাকটিভ মানুষের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো উত্তেজিত বা আবেগপ্রবণ না হয়ে ঠান্ডা মাথায় চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা, কী নেই তা নিয়ে না ভেবে যা আছে তা নিয়েই সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করা। সাময়িক ব্যর্থতায় ভেঙে না পড়া।
মানুষের জীবনে দৃষ্টিভঙ্গির ভূমিকা অনেক। বিভিন্ন মানুষ একটি জিনিসকে ভিন্নভাবে দেখে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি মেয়ে রাতের বেলা একাকী ঘুরলে তাকে খারাপ চোখে দেখা হয়। আমাদের সমাজে এমন হাজারও দৃষ্টান্ত রয়েছে। ব্যক্তিকে তার নেতিবাচক দিক থেকে সরে আসতে হবে। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সমাজকে দেখতে হবে যাতে করে অন্য মানুষের সহজ পথ চলায় বিঘ্ন না ঘটে। অন্যের সাহসিকতার গল্প যেন না থেমে যায়। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মধ্য দিয়ে সমাজের পরিবর্তন আনতে হবে। নিজের মধ্যে সৃষ্টি করতে হবে সচেতনতার মনোভাব। তবেই দেশ ও সমাজ এগিয়ে যাবে তার আপন গতিতে।
n লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়