বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মমতাজ আর নেই

বগুড়ার প্রবীণ রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি .......... ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রবিবার রাত ৪ টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৫ বছর। তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মরহুমের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মমতাজ উদ্দিন ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও কিডনি জটিলতাসহ বার্ধক্যজনিত নানারোগে ভুগছিলেন। চোখের চিকিৎসার জন্য তিনি গত ৪ ফেব্রুয়ারি ভারতে যান। সেখানে চিকিৎসা শেষে তিনি গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরেন। শনিবার সকালে শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বগুড়া ডায়াবেটিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হন মমতাজ উদ্দিন। সে সময় তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) নেওয়া হয়। পরে সেখানেই রাত ৪টার দিকে মারা যান প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ।

তার মৃত্যুর খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে দলের নেতাকর্মীরা শজিমেক হাসপাতালে ছুটে যান। প্রবীণ এই নেতাকে এক নজর দেখার জন্য হাসপাতালে ভিড় জমায়। 

রবিবার বাদ যোহর বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজার আগেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অর্নারের মাধ্যমে সালাম জানানো হয়। বগুড়ার এই মাঠে সর্ববৃহৎ নামাজে জানাজায় মানুষের ঢল নামে। মাঠে জায়গা না হওয়ায় চারদিকে সড়কগুলোতে সাধারণ মানুষ জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।

আরো পড়ুন: বিয়ের উপহার হিসেবে মোদির পক্ষে ভোট চাইলেন বরের বাবা

জানা গেছে, জাতীয় সংসদের হুইপ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য হবিবর রহমান, জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ,পুলিশ সুপার আশরাফ ভূঞাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক,সামাজিক এবং শ্রেণি-পেশার মানুষ জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। পরে বাদ আসর স্থানীয় মানিকচক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে চিরশায়িত করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা মমতাজ উদ্দিন ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ছাত্র থাকাকালেই তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে তিনি বগুড়া জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালে তিনি বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত হন। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে মমতাজ উদ্দিন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৫ সালে তিনি বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। প্রায় এক দশক সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৯৪ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন মমতাজ উদ্দিন। ২০০৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ও ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তিনি পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালের অক্টোবরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সিনিয়র সদস্য (ক্রমানুযায়ী দ্বিতীয় সদস্য) নির্বাচিত হন।

এদিকে রাজনীতিবিদ ছাড়া মমতাজ উদ্দিন ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তিনি বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একাধিকবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) একাধিকবার পরিচালক নির্বাচিত হন। কয়েক বছর আগে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ‘প্রভাতের আলো’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। তিনি ওই পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক ছিলেন। বগুড়া প্রেসক্লাবের সদস্য মমতাজ উদ্দিন মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত বগুড়া ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতিও ছিলেন।

ইত্তেফাক/বিএএফ