তরুণরা একুশের ফ্যাশনকে গ্রহণ করেছে

‘একুশ আমাদের গর্ব, একুশ আমাদের অহংকার। প্রতিবছর একুশ আসে বাঙালির চেতনা ও শিল্পসত্তাকে নতুন করে আরেকবার শানিয়ে দিতে। এই প্রজন্মের একজন নারী প্রতিনিধি হিসেবে একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আমি সাক্ষরতা নিয়ে কাজ করতে চাই। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমাদের জন্য একটা বড় সম্মান বয়ে এনেছে। কিন্তু একথাও সত্যি যে বাংলা অক্ষর লেখা, পড়া ও বলার জন্য আমরা সংগ্রাম করেছিলাম; সেই অক্ষর এখনো দেশের প্রায় শতকরা চল্লিশ ভাগ লোক ব্যবহার করতে পারে না। তাই এই প্রজন্মের একজন নারী হয়ে আমি সাক্ষরতা নিয়ে কাজ করতে চাই।’ এভাবেই নিজের মনে লালিত একুশের চেতনা প্রসঙ্গে বললেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি বি. এম. লিপি আক্তার। একুশের বইমেলায় এখন নারী লেখকদের অংশগ্রহণ আগের চেয়ে বেড়েছে। বিষয়টি কিভাবে মূল্যায়ন করেন? উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যাপারটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। পূর্বের তুলনায় বর্তমান বইমেলায় নারী লেখকদের অংশগ্রহণ অনেক বেড়েছে। আর এই বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হলো পারিবারিক সচেতনতা, নারীদের স্বাধীনতা, নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি, পুরুষদের সহযোগিতা এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির অমূল পরিবর্তন। একসময় সমাজ নারীদের অনেক তুচ্ছ মনে করত। কিন্তু বর্তমানে নারীদের নিয়ে সমাজের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তাছাড়া সাহিত্য সমাজের দর্পণ। নারীদের লেখা বই বইমেলায় প্রকাশিত হওয়ার মাধ্যমে আমরা বর্তমানে একই বিষয়ে নারী ও পুরুষের আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি পাচ্ছি। যেটি আমাদের দেশের সাহিত্য ও সমাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ একুশ শোক থেকে অহংকার বা গর্বে পরিণত হয়েছে। মায়ের ভাষা বাংলা আজ বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত। সর্বত্র শুদ্ধ বাংলা ভাষার প্রচলন করতে আপনার পরামর্শ কী? উত্তরে লিপি বলেন, ‘একুশ শব্দটি শুধু একটি সংখ্যা নয়, একুশ বাঙালির অহংকারের প্রতিচ্ছবি। মায়ের ভাষা বাংলা আজ বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত। তবে এত অর্জনের পরও আমাদের ভালোবাসার বাংলা ভাষা তার স্বকীয়তা হারাচ্ছে দিন দিন। মাতৃভাষার জন্য আমাদের ভালোবাসার কমতি নেই বিন্দুমাত্র। তবে বাংলা ভাষাকে ভালোবাসলেই যে তার সঠিক ব্যবহার করতে পারব—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। শুদ্ধ বাংলা ভাষার প্রচলন করতে প্রথমেই আমি চাই সকল পর্যায়ে ভাষার প্রতি ভালোবাসা ও অঙ্গীকার। আর সেটা শুধু ফেব্রুয়ারিতে নয়, সব সময়ই। তাছাড়াও আমার পরামর্শ থাকবে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সক্রিয়তা বৃদ্ধি করা। সবশেষে যা বলব সেটি হলো জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে ভাষা শিক্ষায় শিক্ষকদের ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ব্যবহারিক জীবনে তেমনি সংবাদপত্রগুলো ভাষা সঠিকভাবে ব্যবহারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সকল পর্যায়ে প্রয়োজন সদিচ্ছা, সচেতনতা ও সক্রিয় উদ্যোগ।’ আমাদের দেশীয় ফ্যাশনে একুশের চেতনা সমুজ্জ্বল। একুশের ফ্যাশন নিয়ে আপনার ভাবনা জানতে চাই? তিনি বলেন, ‘ঘুরে ফিরে প্রতিবছর বেশ আড়ম্বরেই পালিত হয় মহান ভাষা দিবস। বিভিন্ন আঙ্গিকে স্মরণ করার জন্য চলে ব্যাপক আয়োজন। তেমনি একটি আঙ্গিক ফ্যাশন জগত্। ভাষা দিবসকে চিরজাগ্রত করার জন্য ফ্যাশন ট্রেন্ডে চলে ব্যাপক আয়োজন। শার্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, ফতুয়া কিংবা শাড়িতে ভাষা দিবসের প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়। দেখে যেন মনে হয় চলমান ক্যানভাসে জাগ্রত করে যাচ্ছে ভাষাদিবসের ইতিহাসকে। ফ্যাশন ফিল্ডের এই ধারা তরুণ সমাজ বেশ জনপ্রিয়। এখন ফ্যাশনে সমন্বয় ঘটানো হয়েছে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার।’