বাগেরহাটে এক শিশু জন্মের পর থেকে নিউরোফাইব্রোম্যাটোসিস নামে এক জটিল রোগে ভুগছে। গণেষ দে (৯) নামের ওই শিশুটির শরীরের চেয়ে মাথা অনেক বড়। তার হাত-পা দুর্বল হয়ে আসছে। মুখমণ্ডল এক দিকে বেঁকে গেছে। বয়সের তুলনায় প্রায় অর্ধেক ওজন। প্রতিবন্ধী হিসেবে জন্ম গ্রহণ না করলেও ধীরে ধীরে সে বাক এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীতে পরিণত হচ্ছে।
গণেষ দে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া গ্রামের গোবিন্দ দের ছেলে। তার মা সপ্না দে। ১১ বছরের দাম্পত্য জীবনে নয় বছর আগে ওই দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় গণেষ। ওই দম্পতির একমাত্র সন্তান গণেষ। ছেলের চিকিৎসা করতে গিয়ে তার বাবা-মাও এখন নানা রোগে ভুগছেন।
জানা গেছে, নয় বছরের এই বয়সে শিশুর ওজন প্রায় ৩০ কেজি থাকার কথা থাকলেও তার ওজন মাত্র ১৯ কেজি। জটিল এই রোগের কারণে খাবার খাওয়া, চলাফেরা এবং স্বভাবিক সব ধরণের কাজকর্ম গণেষের জন্য কষ্টসাধ্য। জন্মগ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত চিকিৎসা করে গণেষকে সুস্থ করা যায়নি। ছেলেকে সুস্থ করতে গণেষের বাবা-মা প্রাণপণ চেষ্টা করে চলেছেন। কিন্তু ছেলের সুস্থ্যতা দূরের কথা ক্রমান্বয়ে অসুস্থতা বেড়ে চলেছে। ছেলের চিকিৎসা করতে গিয়ে গণেষের বাবা-মা এখন প্রায় সর্বশান্ত হয়ে হয়েছেন। অর্থ সংকটে ছেলের প্রতিদিনের ওষুধ যোগাতে হিমশিম খাচ্ছে অসহায় ওই দরিদ্র পরিবারটি।
গণেষের বাবা গোবিন্দ দে জানান, ছেলে জন্ম গ্রহণের ছয় মাস পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর শুরু হয় তার চিকিৎসা। বাগেরহাট এবং খুলনায় চিকিৎসা করে সুস্থ না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ছেলেকে নিয়ে যাওয়া হয় ভারতে। কয়েক দফা ভারতে গিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ছেলের চিকিৎসা করানো হয়। ২০১৭ সালে ভারতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর তারা জানতে পারে ছেলে নিউরোফাইব্রোম্যাটোসিস রোগে আক্রান্ত।
গোবিন্দ দে আরো জানান, ছেলের চিকিৎসা করাতে তিনি তার সাত শতাংশ জমি বিক্রি করেছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে ধারদেনা করে, ঋণ নিয়ে ছেলের চিকিৎসা করাচ্ছেন। ছেলের চিকিৎসা করাতে এরিমধ্যে ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। কিন্তু ছেলে এখনো সুস্থ্য হয়নি। এখন প্রতিদিন ছেলের ওষুধের জন্য ২০০ টাকা জোড়ার করাই তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তাদের পক্ষে ছেলেকে চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ নেই। অসুস্থ ছেলেকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের দাবি জানান গোবিন্দ দে।
আরও পড়ুনঃ দুই সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দিলেন শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. জি কে এম শামছুজ্জামান জানান, গণেষ নিউরোফাইব্রোম্যাটোসিস রোগে আক্রান্ত। এই রোগ সাধারণত দেখা যায় না। এই রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদী। এই রোগ হলে মানবদেহের মস্তিক, অঙ্গপ্রতঙ্গ এবং নার্ভ ঠিকমতো কাজ করে না। শিশুটি ধীরে ধীরে প্রতিবন্ধীদের দিকে ধাবিত হবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না হলে এক সময়ে মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়তে পারে। শিশুটিকে বাঁচাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসার কথা জানালেন তিনি।
ইত্তেফাক/নূহু