রাজশাহীর ৯টি উপজেলার ৭৬টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন করে সহকারী সার্জনের পদ রয়েছে। কিন্তু ওইসব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৬৬টি পদই শূন্য। তবে চারটি উপজেলার ১০টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন করে চিকিৎসক কর্মরত। এছাড়া এসব উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নার্সের পদও শূন্য রয়েছে।
জানা যায়, মাঝেমধ্যে ওইসব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক বদলি করা হয়। কিন্তু কেউ বেশিদিন থাকেন না। তদবির করে কেউ সংযুক্তি ও প্রেষণে শহরে অথবা পছন্দের জায়গায় চলে যান। ফলে গ্রামীণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সরকারি উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে। অনেকটা বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষ প্রাইভেট ক্লিনিক কিংবা হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন।
সূত্র জানায়, গোদাগাড়ীর চর আষাঢ়িয়াদহ ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে সহকারী সার্জনের পদটি ৫ বছর ধরে শূন্য। উপজেলার বালিয়াঘাটা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডা. লায়লা রাজ্জাক প্রেষণে সংযুক্ত রয়েছেন নবপ্রতিষ্ঠিত মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজে। বাসুদেবপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত রয়েছেন ডা. তৌহিদা সাবরিন। তিনিও সংযুক্তি বদলিতে কর্মরত আছেন রাজশাহী পুলিশ হাসপাতালে।
সূত্র মতে, বাগমারার ১৭টি, দুর্গাপুরের ৭টি, তানোরের ৮টি, চারঘাটের ৬টি, পুঠিয়া উপজেলার ৭টির সবকটি, গোদাগাড়ীর ১১টির মধ্যে ৯টি, বাঘার ৫টির মধ্যে ৩টি, পবার ৯টির মধ্যে ৫টি ও মোহনপুরের ৬টির মধ্যে ৪টিতে কোনো চিকিৎসক নেই। সূত্র মতে, ওই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের আওতায় প্রায় ১৫ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার ভার রয়েছে।
সূত্র জানায়, শুধু ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রই নয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও চিকিৎসক সংকট মারাত্মক। বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২২টি পদের ১২টিই শূন্য রয়েছে। এখানে পদ থাকলেও নেই আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার, সার্জারি, গাইনি, মেডিসিন, অ্যানেস্থেসিয়া, চক্ষু, হৃদরোগ, চর্ম ও যৌন এবং অর্থপেডিক বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট।
একমাত্র নগরীর উপকণ্ঠ পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার। এছাড়া বাকি ৮ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ পদে কোনো চিকিৎসক নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে পুঠিয়ায় ৬, চারঘাটে ৬, দুর্গাপুরে ৭, বাগমারায় ৪, তানোরে ৭, মোহনপুর ও গোদাগাড়ীতে ৫টি করে চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের ওপর অবস্থিত গোদাগাড়ী হচ্ছে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা। এখানে রয়েছে ৩১ শয্যার হাসপাতাল। প্রতিদিন এখানে ঘটছে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা। অথচ জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য এ হাসপাতালে নেই সার্জিক্যাল বিশেষজ্ঞ। ৯টি পদ থাকলেও আবাসিক মেডিকেল অফিসারসহ শূন্য আরও ৫ পদ শূন্য। রাজশাহীর সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মঞ্জুরিকৃত ৭টি নার্সিং সুপারভাইজারের বিপরীতে কর্মরত ৫ জন। এছাড়া ১৮৬ পদের বিপরীতে সিনিয়র স্টাফ নার্স রয়েছেন ১৭১ জন। এছাড়া ১০ পদে সহকারী নার্সের বিপরীতে কর্মরত মাত্র একজন।
আরও পড়ুনঃ নিউরোফাইব্রোম্যাটোসিসে ভুগছে শিশু, প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের দাবি
জেলা সিভিল সার্জন ডা. সঞ্জিত কুমার সাহা বলেন, ‘নতুন চিকিৎসক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলে উপজেলা এবং ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক সংকট থাকবে না।’
ইত্তেফাক/নূহু