‘একবেলা খাইতে পারলে আরেক বেলা খাবার জোটে না’

‘গাজীপুর থেকে ১০০ টাকা হাতে নিয়া সাতদিন আগে আন্দোলনে এসেছি। পেটে ছয়মাসের বাচ্চা। এখানে একবেলা খাইতে পারলে আরেকবেলা খাওয়া জোটে না। পাওনা ট্যাকা না পাইলে বাড়ি যাওয়ার ভাড়াও নাই।’ এভাবেই ইত্তেফাক অনলাইনকে নিজের দুর্দশার কথা জানাচ্ছিলেন স্টাইল ক্রাফট গার্মেন্টস কারখানার অন্তঃসত্ত্বা শ্রমিক কামরুন্নাহার।

কারখানাটির ৪ হাজার ৩০০ শ্রমিক প্রায় ৮০ কোটি টাকা পাবেন মালিকপক্ষের কাছে। বিজিএমইএ, শ্রম মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও টাকা না পেয়ে তারা শ্রম ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে বসেছেন। সোমবার (১ নভেম্বর) তাদের কর্মসূচি সপ্তম দিনে গড়িয়েছে।

ছবি: ইত্তেফাক

আন্দোলনরত শ্রমিকদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী। এরমধ্যে আবার কয়েকজন অন্তঃসত্ত্বা। মাত্র কয়েকমাস বয়সী বাচ্চাদের নিয়েও এসেছেন অনেকে। কারণ, বাড়িতে বাচ্চাদের দেখার কেউ নেই।

সরেজমিনে শ্রমভবন ঘুরে দেখা গেছে, ভবনটির নিচতলা ও দোতলায় অবস্থান নিয়েছেন কয়েকশ নারী শ্রমিক। ভবনের পাশের রাস্তায়, ফুটপাতে ও আশেপাশের ভবনের নিচতলায়ও থাকছেন তারা। পাশাপাশি আছেন পুরুষ শ্রমিকরাও। শ্রম ভবনের অল্প কয়েকটি টয়লেট ব্যবহার করতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে তাদের।

ছবি: ইত্তেফাক

সোমবার সন্ধ্যায় কামরুন্নাহার কান্নাজড়িত কণ্ঠে ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘মালিকও কিছু কয় না, প্রশাসনও কিছু কয় না। সরকারও খোঁজ নেয় না। সারাদিন না খাওয়া আছি। সকালে একজন এট্টু ভাত দিছিল, এরপর থাইক্যা বইস্যাই আছি। আমগো রক্তের ট্যাকা, ঘামের ট্যাকা আমরা পাইতাছি না।’

আরেক অন্তঃসত্ত্বা শ্রমিক রোজিনা ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। চাইর মাস বেতন পাই নাই ঈদের আগে। ঈদের পরে হাতে পাঁচ হাজার কইরা ট্যাকা ধরায়া দিসে। কারখানা আর খোলার নাম নাই, টাকাও দেয় না। বিজিএমইএতে গিয়া দুইদিন থাইক্যা আসছি আগে, সেইহানেও কিছু হয় নাই। ঘর ভাড়া বাকি চাইর মাসের, বাড়িওয়ালা ঘরে তালা দিয়া দিব কইছে। জামাই করে দিনমজুরি। কোনো দিকেই কোনো উপায় নাই। পাওনা না দিলে আমরা যাইতাম না।’

ছবি: ইত্তেফাক

সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা শ্রমিক কুলসুম ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘ভাড়া দেওয়ার ট্যাকা নাই, খাওয়ার ট্যাকা নাই। পেটে সাত মাসের বাচ্চা। এইটা আমার প্রথম বাচ্চা। এর মধ্যেই কষ্ট কইরা এই জায়গায় আছি। সাতদিন ধইরা ফ্লোরে থাকতাছি, একবেলা খাইলে আরেকবেলার খাওন নাই। কী হইবো জানি না, তয় পাওনা না নিয়া ফিরত যাওয়ার কোনো রাস্তা নাই।’