নোয়াখালীর নিঝুমদ্বীপে স্বামীর সহযোগিতায় রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে এক গৃহবধূকে গনধর্ষণের ঘটনায় মো. শরীফ নামে আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার (১ নভেম্বর) রাতে নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলার বয়ারচরের হাতিয়া বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
আটক শরীফ (২৮) উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মদিনা গ্রামের মৃত সিরাজের ছেলে। সে ধর্ষণ মামলার এজহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি। এর আগে এই ঘটনায় পুলিশ ভুক্তভোগী নারীর স্বামীসহ আরও চারজনকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় নির্যাতিতা গৃহবধূ বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখসহ ১০জনের বিরুদ্ধে হাতিয়া থানায় একটি মামলা করেন।
থানায় করা মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২৪ বছর বয়সী ওই গৃহবধূ চট্টগ্রামে একটি গার্মেন্টসে চাকরী করতেন। ৩ আগস্ট নিজ এলাকা নিঝুমদ্বীপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তার দুই বছরের বাচ্চাকে নিয়ে হাতিয়ার মুক্তারিয়াঘাট থেকে ট্রলার যোগে রওনা করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি বন্দরটিলাঘাটে গিয়ে পৌঁছেন। ঘাটে নেমে একটি ভাড়া চালিত মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। কিছুদূর যাওয়ার পর তার স্বামী সোহেলসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলটি গতিরোধ করে তাকে নামিয়ে হাত ও মুখ বেঁধে ফেলে। পরে তারা ওই গৃহবধূকে সিডিএসপি বাজার পার্শ্ববর্তী বান্ধাখালি গ্রামের মেঘনা নদীর তীরে নিয়ে যান। সেখানে আটকে রেখে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সোহেল, হক সাব, রাশেদ, আক্তারসহ ৭জন তাকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। পরে মুখের বাঁধন খুলে গেলে চিৎকার করেন গৃহবধূ। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে ধর্ষণকারী অন্যরা পালিয়ে গেলেও স্বামী সোহেলকে আটক করে স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে নিঝুমদ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক সৌরজিৎ বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গৃহবধূকে উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হক সাব, রাশেদ, আক্তার হোসেনসহ তিনজনকে আটক করে। এদের সবার বাড়ী নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নরে ৭ ওয়ার্ডে মদিনা গ্রামে।
স্থানীয়রা জানায়, নির্যাতিতার স্বামী সোহেল এলাকায় বখাটে হিসাবে পরিচিত। সে এর আগে আরও দুটি বিয়ে করে। ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে তার মনমালিন্য চলে আসছিল অনেক দিন থেকে। ইতিমধ্যে সোহেল এই নারীকে তালাক দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল।
এব্যাপারে মামলার দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা হাতিয়া থানা পরিদর্শক (তদন্ত) কাঞ্চন কান্তি দাস বলেন, এই মামলায় পূর্বে গ্রেফতার হওয়া ৪ জনের মধ্যে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে শরিফকে গ্রেফতার করা হয়। এ মামলায় এজাহার নামিয় আরও দুই আসামি পলাতক রয়েছে। তাদেরও গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।