ইয়েমেনের মারিবের সম্ভাব্য যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেবে তা পর্যবেক্ষণ করছে সোদি আরব ও ইরান। কারণ, যে কোনও মুহূর্তে কিছু হয়ে যেতে পারে। আর এই যুদ্ধের সঙ্গে দুই দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা থেকে শুরু সামরিক রণকৌশল নির্ভর করছে। খবর রয়টার্স।
যুদ্ধটি মারিবের ত্রিশ লাখ লোকের জনসংখ্যাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলবে, যার মধ্যে প্রায় এক মিলিয়ন যারা ইয়েমেনের অন্যান্য অংশ থেকে পালিয়ে গেছে যেহেতু এটি সৌদি আরব এবং ইরানের মধ্যে একটি আঞ্চলিক ক্ষমতার লড়াইয়ে আটকা পড়েছে।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়া মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন যে তারা মারিবের আল-জুবাহ এবং জাবাল মুরাদ জেলাগুলি দখল করেছে, গত মাসে আল-আবদিয়া এবং হারিব নেওয়ার পরে, "আমাদের মুজাহিদরা মারিব শহরের দিকে অগ্রযাত্রা চালিয়ে যাচ্ছে"।
এ দিকে চলতি সপ্তাহে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বারো জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। হুথি বিদ্রোহীরা ইরানের মদদপুষ্ট। ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তিতে সহায়তা দিয়েছে। যদিও সোদি আরব এডেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহর হুথিদের দখলে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছিল। তারপর থেকে রিয়াদ ইয়েমেনে বিপর্যস্ত সরকারী বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে আটকে পড়ে। সংযুক্ত আরব আমিরাত একসময় রিয়াদের পক্ষ নিয়েছিল। কিন্তু, এখন ইয়েমেন ভিন্ন পথ নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এর অর্থ হল রিয়াদ তার ইয়েমেনের মিত্রদের মারিবের প্রধান যুদ্ধে হেরে যাওয়ার আশঙ্কা করছে।
মারিব সৌদি আরব সীমান্ত থেকে প্রায় একশো কিলোমিটার দূরে। কিন্তু, হুথিরা শহর দখল করে নিলে তখন প্রতীকী পরাজয়ে পরিণত হবে। তাছাড়া, এই বিষয়টা ইরানের কাছে অত্যন্তু গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ইরানের তাসনিম মিডিয়া গোটা যুদ্ধের বিষয়টি হাইলাইট করছে।
এ দিকে হুথিরা এই আক্রমণকে “বিজয়ের বসন্ত” বলে অভিহিত করেছে। তারা ইতিমধ্যে তাদের কৌশল ব্যাখ্যা করেছে। তাসনিম সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হুথি মুখপাত্র বলেন, ইয়েমেনি সেনা বাহিনী, উপজাতীয় বাহিনীর সহায়তায়, মারিব, শাবওয়া এবং আল-বায়দা প্রদেশে সফল অভিযান চালিয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে “বিজয় বসন্ত মুক্তি’ অভিযানে আরও ১,১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা মুক্ত করার ঘোষণা করা হবে।”