প্রধান শিক্ষকের থাপ্পড়ে কানের পর্দা ফাটলো শিক্ষার্থীর

চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলামের থাপ্পড়তে কানের পর্দা ফেটে গেলো দশম শ্রেণীর ছাত্র রিয়াদ হোসেনের। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রের বাবা আব্দুল বাকী বাদী হয়ে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চাটমোহর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।  চাটমোহর উপজেলা নির্বাহনী কর্মকর্তা মো. সৈকত ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

বিদ্যালয়-থানা-অভিভাবক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রিয়াদ হোসেনসহ দশম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্র মোবাইলফোন নিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করে। তাদের কাছে মোবাইলফোন আছে কি না, জানতে চান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম । এ সময় রিয়াদ হোসেনসহ ৫ ছাত্র উঠে দাঁড়ায়। তাদের সবাইকেই শাস্তি হিসেবে বেত্রাঘাত  করেন শিক্ষক। আর রিয়াদের কানের ওপর এলোপাথাড়ি থাপ্পড় দিতে থাকেন। এতে প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে রিয়াদ শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলে। বাড়িতে গিয়ে বাবা-মাকে বিষয়টি জানায় সে। 

এ ব্যাপারে রিয়াদের বাবা আব্দুল বাকী বলেন, ‘আমার ছেলে আগে জহুরুল ইসলামের কাছে প্রাইভেট পড়তো। এখন পড়ে না। সেই রাগে আমার ছেলেকে তিনি থাপ্পড় মেরেছেন। ছেলে কানে শুনছে না এখন। ছেলেকে গুরুদাসপুরে নাক-কান-গলা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম। চিকিৎসক জানিয়েছেন রিয়াদের কানের পর্দা ফেটে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চাটমোহর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘ক্লাসে মোবাইলফোন নিয়ে প্রবেশ করায় ওই দিনে আমি রিয়াদসহ ৫ জন ছাত্রকে মেরেছি। বিষয়টি উচিত হয়নি। হঠাৎ করেই বিষয়টি ঘটে গেছে। এজন্য আমি অনুতপ্ত।’

চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সৈকত ইসলাম বলেন, ‘শুনেছি এই ব্যাপারে আমার দফতরে একটি অভিযোগ এসেছে। এখনো হাতে পাইনি। তবে  শিগগিরই তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।’