সারাদেশে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের আহুত ধর্মঘটে কারণে ভোগান্তির মাধ্যমে শুরু হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা। প্রথম দিনের ভর্তি পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী উপস্থিত হতে পারেনি। শেষ সময়ে এসে কেন্দ্রের সামনে ভোগান্তিতে পড়েন কিছু শিক্ষার্থী। শুক্রবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টায় সাত কলেজের বাণিজ্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়, চলে বেলা ১১টা পর্যন্ত।
সরেজমিন ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই কেন্দ্রের সামনে ভিড় করেন শিক্ষার্থীরা। তবে পরিবহন ধর্মঘট থাকায় শিক্ষার্থীদের বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হয়। দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগত যানবাহন, রিকশা, সিএনজিতে করে পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হন। এতে শিক্ষার্থীদের গুণতে হয়েছে স্বাভাবিক ভাড়ার চাইতে কয়েকগুণ বেশী অর্থ।
পরীক্ষায় অংশ নিতে মিরপুর থেকে আসা পরীক্ষার্থী মাসুম হোসেন বলেন, পরিবহন ধর্মঘট থাকায় ভোরেই বাসা থেকে বের হয়েছি। সঠিক সময়ের আগে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পেরে ভালো লাগছে। তবে পুরোটা পথ রিকশায় আসতে হয়েছে। রাস্তায় বের হয়ে রিকশা-সিএনজি কিছুই পাচ্ছিলাম না। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর একটা সিএনজি নিয়ে এখানে আসছি। ভাড়াও বেশি। গাড়ি-ঘোড়া সব বন্ধ।
এদিকে পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, পরীক্ষায় সাধারণত উপস্থিতির হার এমনই থাকে। উপস্থিতি ভালো হয়েছে। এটি ঠিক গণপরিবহনের কারণে কিছুটা ভোগান্তি হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা আমরা করেছি। আমরা এটিও সবসময় পরামর্শ দিই গণপরিবহনেও যাতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়। আমাদের শিক্ষার্থীরা তাদের টার্গেট ফিলাপ করার জন্য অনেক বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হয়। কিন্তু এটি সত্ত্বেও তারা সেটি ওভারকাম করতে পারে। সেই শক্তি এবং সাহস আমাদের শিক্ষার্থীরা রাখে। আজ বুঝতে পারলাম তারা কীভাবে বাধা অতিক্রম করে অভিষ্ঠ লক্ষ্যে যেতে পারে।
সাত কলেজের সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, সাত কলেজের সমস্যাগুলো সমাধানে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে। আমরা সমস্যাগুলো নিয়ে আরও মনোযোগী হচ্ছি। আমাদের কিছু জটিলতা নিরসন হয়েছে। বাকিগুলোর সমাধানের চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাত কলেজে আর কোনো ধরনের জটিলতা থাকবে না।
গণপরিবহন ধর্মঘটের কারণে পরীক্ষায় প্রভাব পড়ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন নানা কারণে যদি পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয় সেটি আরেকটি ভোগান্তি নিয়ে আসবে। কারণ এখন শিক্ষার্থীরা একটা মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষার প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে। এই প্রস্তুতি একটা জাতিকে উপরের দিকে নিয়ে যায়। এমন প্রতিকূলতা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে সামনের দিকে যেতে হবে। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও দেখেছি আমাদের শিক্ষার্থীরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যে পড়ে এরপরও সাধারণ কার্যক্রম, শ্রেণীকক্ষে উপস্থিত হওয়া এগুলো তারা সচল রাখে। কারণ এটা একটা জাতির মৌলিক বিষয় সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য শিক্ষার্থীরা প্রতিকূলতাকে মোকাবিলা করবে।
এছাড়া অধিভুক্ত সাত কলেজের বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আজ শনিবার এবং ১৩ নভেম্বর কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।