ঝিনাইদহে ডায়রিয়ার প্রকোপ

ঝিনাইদহ পৌরসভা এলাকায় ডায়রিয়ার প্রকোপ শুরু হয়েছে। গত ৩ দিনে জেলা সদর হাসপাতালে প্রায় ২০০ রোগী ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালের বেডে স্থান না পেয়ে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ডাক্তার ও  নার্সরা।

সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাত থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী আসতে শুরু করে। বৃহস্পতিবার ৫৩ জন, শুক্রবার ৫৯ জন ও শনিবার ৬২ জন ডায়রিয়া রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে। এখনো রোগী আনছে। যাদের অধিকাংশ রোগীর বাড়ি শহরের হামদহ, কাঞ্চনপুর ও মোল্লাপাড়া এলাকায়।

হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে বেডে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। মেঝতে পর্যন্ত নেই তিল ধারণের ঠাঁই। করিডোরে রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই নারী ও বয়স্ক। শিশু রোগীও আসছে।

আলহেরা পাড়া এলাকার জুয়েল নামের এক রোগীর স্বজন বলেন, আমাদের ফ্যামিলিতে ৩ জন অসুস্থ হয়েছে। আমার বোন সুস্থ হয়েছে। বোনের বাচ্চা এখনো সুস্থ হয়নি। 

খন্দকারপাড়া এলাকার সোনালী নামের এক রোগী বলেন, হঠাৎ করে আমার মেয়ের পাতলা পায়খানা শুরু হয়। তারপর আমার স্বামী, এরপর আমার হয়েছে। কিসের জন্য হয়েছে, তা বলতে পারছি না। আমরা তো টিউবয়েলের পানি খাই। সাপ্লাইয়ের পানি দিয়ে গোসল ও রান্না করি। বাড়ির আশপাশের লোকজনেরও ডায়রিয়া হয়েছে।

চৈতি নামের এক রোগী বলেন, ওষুধও আমরা অনেক সময় পাচ্ছি না। বাইরে থেকে কিনে দিতে হচ্ছে। অনেক তো রোগী। নার্সরাও ঠিকমতো সেবা দিতে পারছে না ।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ডা. জাকির হোসেন বলেন, রোগীরা বেশিরভাগই একটি নির্দিষ্ট এলাকার। এতে আমরা ধারণা করছি কোন খাবার অথবা পানির মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশুদ্ধ পানি পান করেন এবং হাত ধুয়ে খাবার খেতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 

হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. হারুন-অর-রশিদ বলেন, শিশু ডায়রিয়া আগের মতই আছে, বয়স্ক মানুষের ডায়রিয়া হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সব জায়গা যোগাযোগ করেছি। আমাদের ওষুধ, স্যালাইন পর্যাপ্ত আছে। আমরা আশা করছি এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারব। তিনি অবশ্য বলেন, কিছু ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।

সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে পানি দুষিত হয়ে ডায়রিয়ার বিস্তার হয়েছে। শুধু ঝিনাইদহ শহরের একটি এলাকায় এ রোগের বিস্তার ঘটেছে। জেলার অন্য এলাকায় ডায়রিয়ায় আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি। ঢাকায় আইডিসিআর’কে জানানো হয়েছে। তাদের পরীক্ষার পর জানা যাবে কোথা থেকে রোগ সংক্রমণ হয়েছে।