রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করায় এলাকার মানুষ উন্নয়নের স্বাদ পায়: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

জাতীয় পার্টি’র (জেপি) চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে তাদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য ন্যায্য হিস্যা আদায়ের পথ সুগম হয়। ৩৮ বছর ধরে আমরা এলাকার সকল ধরণের উন্নয়নের জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যার সুফল হিসাবে আজ দুর্গম যোগাযাগ ব্যবস্থাকে সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় এনে এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলের ক্ষেত্রে রাস্তা-ঘাট, পুল-ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছি। এই সময়কালে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে ওঠে কাজ করতে সচেষ্ট ছিলাম বলে মানুষ কাঙ্খিত উন্নয়নের স্বাদ পাচ্ছে।

তিনি শনিবার পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ইকড়িতে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আরও বলেন, যারা ঢাকায় থাকেন তারা এলাকার মানুষের আশা-আকাঙ্খাকে অনুধাবন করেন না। আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করেন বলে তারা সব সময় দেখেন দুর্নীতি, মারপিট, হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি, খুনো-খুনি, সংঘাতের রাজনীতির চর্চা। তারা রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট, মন্দির-মসজিদ ইত্যাদি জনকল্যাণমূলক কাজের বাস্তবায়ন দেখতে পান না। যার ফলশ্রুতিতে ইউনিয়ন পরিষদের মত নির্বাচনকে ঘিরেও  হত্যা, সংঘর্ষ, অগ্নি সংযোগের ঘটনায় আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়। যে কারণে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির উদ্ভব হয় এবং উন্নয়ন কাজের বিঘ্ন ঘটে।

তিনি এলাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যে যখন সরকারে থাকুক না কেন ভাণ্ডারিয়াসহ এ এলাকার মানুষকে তাদের ন্যায্য হিস্যা থেকে কখনই কেউ বঞ্চিত রাখতে পারবে না। এলাকার মানুষ ঝগড়া-বিবাদ, কাইজ্জা-কলহ, দ্ব›দ্ব সংঘাতের ঊর্ধ্বে থেকে তাদের দাবি দাওয়ার কথা যখন জানান তখন আমাদের পক্ষে কেন্দ্র থেকে উন্নয়ন বরাদ্দ আনা সহজ হয়। তাই এলাকায় মানুষকে সব সময় এক থাকতে হবে। শান্তি-শৃঙ্খলার সাথে বসবাস করতে হবে।

এ স্বতঃস্ফুর্ত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সীমা রানী ধর, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, উপজেলা প্রকৌশলী বদরুল আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফাইজুর রশীদ খসরু জোমাদ্দার, উপজেলা জেপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, উপজেলা জেপি’র সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, ইকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির, সাবেক চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল হাই হাওলাদার, গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান চৌধুরী, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান খান এনামুল কবির পান্না,  সাবেক ইকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ও জেপি নেতা তানবীর হোসেন বাবুল, উপজেলা জেপি নেতা ইউসুফ আলী আকন, টুঙ্গীপাড়া আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রশীদ তারিক, ইকড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহরাব হোসেন প্রমুখ।

এ সময় আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি চরখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা সড়ক সংলগ্ন ইকড়ি বাসষ্ট্যাণ্ডে নির্মিত একটি সেতুর উদ্বোধন করেন। দুপুরে তিনি ভাণ্ডারিয়া পৌর এলাকায় নির্মাণাধীন ‘শেখ কামাল অডিটরিয়াম’ এর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। এরপর ভাণ্ডারিয়া শহরে পৌরসভা কর্তৃক নির্মিতব্য ‘গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩নং ওয়ার্ডের ভুবনেশ্বর ব্রীজ হইতে নিজ ভাণ্ডারিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-টিএন্ডটি সড়ক বাসষ্ট্যান্ড সড়ক পর্যন্ত ৪১০ মিটার সড়কের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।   

ইন্দুরকানী সংবাদদাতা জানান, জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি গতকাল শনিবার সন্ধ্যার পর ইন্দুরকানী উপজেলা সদরে তালুকদার বাড়ীতে যান। সেখানে তিনি সদ্য প্রয়াত উপজেলা জেপি’র আহ্বাবায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুল কবির তালুকদার স্বপনের কবর জিয়ারত ও ফাতেহা পাঠ করেন। তিনি এসময় মরহুমের বাসভবনে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং শোক ও সমবেদনা জানান। মরহুমের ছোট ভাই সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফায়জুল কবির তালুকদার, মরহুমের সদ্য বিধবা স্ত্রী ফেরদৌসী কবিরসহ সন্তানরা এখানে উপস্থিত ছিলেন। কবর জিয়ারতকালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি’র সাথে ছিলেন  ইন্দুরকানী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি  এম মতিউর রহমান এডভোকেট, ইউএনও  লুৎফুন্নেছা খানম, থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির, উপজেলা জেপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন হাওলাদার,  সিনিয়র সহ সভাপতি ও পাড়েরহাট ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার বাবুল, সহ সভাপতি কাওছার উদ্দিন দুলাল প্রমুখ। 

এদিকে ভাণ্ডারিয়ায় রাইয়ান স্পোটিং ক্লাবের উদ্যোগে মানিক মিয়া স্মৃতি নাইট শটপিস ক্রিকেট টুনার্মেন্টের ফাইনাল খেলা শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ভাণ্ডারিয়ার ক্রিকেট খেলার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এখান থেকে জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেটার সৃষ্টি হবে এই আশাবাদ আমাদের। স্থানীয় নেতৃত্ব ও ক্রীড়া অনুরাগীরা আগামীতে আমাদের এই আশা পূরণ করবেন। এখানে প্যাভিলিয়নসহ একটি স্টিডিয়াম রয়েছে যার সদ্ব্যবহার করতে হবে। আমার দৌহিত্র রাইয়ান যে উদ্যোগ শিশু ক্রিকেটারদের নিয়ে শুরু করেছে তা উৎকর্ষতার জন্য একজন ক্রিকেট কোচ নিয়োগ করা যেতে পারে। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ভাণ্ডারিয়া থেকে যদি দু’জন ক্রিকেটারও জাতীয় পর্যায়ে সৃষ্টি করা যায় তার ব্যবস্থা আমরা করতে চাই। তিনি আরও বলেন, শীত মৌসুম শুরু হয়েছে করোনার নতুন ঢেউ আসতে পারে, আমরা যে দুই দুইবার করোনা মোকাবেলা করেছি, বিশেষতঃ মানুষকে করোনার প্রকোপ থেকে রক্ষা করতে যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছি তা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

প্রতিযোগিতায় পূর্ব ভাণ্ডারিয়া একাদশ চ্যাম্পিয়ন ও গৌরীপুর রানারআপ হয়। পূর্ব ভাণ্ডারিয়া মাঠে গতকাল শনিবার রাতে এ প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি ছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান ব্যক্তি ও ক্রীড়ামোদীরা শিশুদের এই ক্রিকেট প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন।