ইউএনও-ওসির ফোন ক্লোনিং করে চেয়ারম্যান প্রার্থীর টাকা আত্মসাৎ

ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ইউএনও ও মডেল থানার ওসির মোবাইল নম্বর ক্লোন করে তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগরে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের ফোন দেয় হ্যাকাররা। ফোনে নিজেদের ইউএনও কিংবা থানার ওসি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অংকের চাঁদা দাবি করে প্রতারকরা বলে জানিয়েছেন একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী। 

জানা গেছে, প্রতারণার শিকার হয়েছেন উপজেলার ৭নং দেবনগর মোটর সাইকেল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মহসীন উল হক ২০ হাজার টাকা বিকাশ করে। এছাড়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী তারেক হোসেন, ভজনপুর ইউনিয়নে মকসেদ আলী, দেবনগড় ইউনিয়নের আবুল কালাম আজাদ ডাবলু, তরিকুল ইসলাম ও মহসিনুল হককে ফোন দিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করলে তারা  বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেন। নাম্বার ক্লোন করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি জানার পর উপজেলার সকল নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সাধারণ জনগণকে টাকা লেনদেনে সচেতন করেছেন প্রশাসন।

আগামী ১১ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী তারেক হোসেন, ভজনপুর ইউনিয়নে মকসেদ আলী, দেবনগড় ইউনিয়নের আবুল কালাম আজাদ ডাবলু, তরিকুল ইসলাম ও মহসিনুল হককে ফোন দিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করলে তারা  বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেন বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী দেবনগর ইউপির চেয়ারম্যান মহসীন উল হক জানান, আমি দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছি। শনিবার সকালে একটি নম্বর থেকে মোবাইলে কল আসে। দেখি থানার ওসির নম্বর। রিসিভ করলে তিনি থানার ওসি পরিচয় দিয়ে একজন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে কথা বলতে বলেন। তার সাথে কথা বললে ব্যস্ততা দেখিয়ে একটি পারসোনাল নম্বরে ২০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠিয়ে দিতে বলেন। আমি বিষয়টি ততোটা বুঝতে না পেরে একজনকে দিয়ে বাজারের এক দোকানে গিয়ে ২০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠিয়ে দেওয়ার পর জানতে পারি প্রতারণার শিকার হয়েছি। কী কারণে ও কোন প্রলোভনে টাকা দিলেন বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি খোলাসা না করে এড়িয়ে যান।

রবিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে দেবনগর ইউনিয়নের মাগুড়মারী চৌরাস্তার বিকাশ দোকানদার সিদ্দিকের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, সকালে আমার কাছে চেয়ারম্যান সাহেবের লোক এসে বিকাশে ২০ হাজার টাকা পাঠাতে বললে আমি পাঠিয়ে দেই।  

এ বিষয়ে মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ছায়েম মিয়া বলেন, ওই প্রতারক চক্র অ্যাপস ব্যবহার করে নিজেকে থানার ওসি পরিচয় দিয়ে ইউপি নির্বাচনে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট দেয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা দাবী করে। এর পর প্রার্থীরা বিষয়টি এড়িয়ে গেলে ইউএনও'সহ পুনরায় থানায় অবহিত করে। পরে সকল নির্বাচনী প্রার্থীকে টাকা লেনদেনে সচেতন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে কোন প্রার্থী টাকা দিয়েছেন কী না জানা নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, এ ঘটনার পর থেকে সকলকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। শুধু আমার (ইউএনও) ও ওসির ফোন নাম্বারই না, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীগণকে এসিল্যান্ড, রিটার্নিং অফিসার এবং প্রিসাইডিং অফিসারের নাম্বার ক্লোন করে অর্থ দাবী করা হচ্ছে। মূলত একটি প্রতারক চক্র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই প্রতারণা শুরু করেছে। তাই এ বিষয়ে কোনরূপ আর্থিক লেনদেন না করার জন্য এবং সতর্ক থাকার জন্য ফেসবুক পোষ্টসহ সকলকে জানানো হয়েছে। আশাকরি সকলে এ বিষয়ে সচেতন থাকবে।