গোল করে নিশ্চুপ নেইমার। কোনো উদযাপন নেই। একটু পর জার্সি তুলে জানিয়ে দিলেন কারণটাও। গত ৫ নভেম্বর এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ব্রাজিলের বিখ্যাত গায়িকা মারিলিয়া মেন্ডোনকা। ২৬ বছর বয়সী এই গায়িকার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পুরো ব্রাজিল। ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে নেইমারও বা ঠিক থাকেন কী করে! তবুও ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড খেলেছেন, গোল করেছেন, মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন। তাতে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইও (পিএসজি) পেয়েছে ৩-২ গোলের জয়।
স্কোরলাইন দেখেই বোঝা যাচ্ছে, বোর্দোর বিপক্ষে জয়টা এতো সহজে আসেনি পিএসজির। ২৬ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের সহায়তায় জোড়া গোলের শুরুটা করেন নেইমার। প্রথমার্ধ শেষ হওয়া তিন মিনিট আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই ফরোয়ার্ড। সেটা আবারও এমবাপ্পের সহায়তা। দারুণ ব্যাক-হিল চিকিতে পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে ৪০০ গোলের মাইলফলক স্পপর্শ করেন নেইমার।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬৩ মিনিটে গিনি ভাইনালডুমের পাস থেকে এমবাপ্পে ব্যবধান ৩-০ করায় মনে হচ্ছিল সহজেই জয়টা পেয়ে পেয়ে যাবে পিএসজি। কিন্তু নিজেদের মাঠে এতো সহজেই হাল ছেড়ে দেয়নি বোর্দো। ৭৯ মিনিটে আলবার্থ এলিসের গোলে ম্যাচে ফিরে স্বাগতিকরা। অতিরিক্ত সময়ে এম'বায়ে নিয়াংয়ের গোলে ব্যবধান আরও কমিয়ে আনে দলটি। কিন্তু সময়ের অভাবে হেরেই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
১৩ ম্যাচে ১১ জয় ও এক ড্রয়ে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে পিএসজি। দুইয়ে থাকা লসের চেয়ে দশ পয়েন্ট এগিয়ে আছে মরিসিও পচেত্তিনোর দল।
এদিকে, কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে লা লিগার শীর্ষে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ। টনি ক্রুস ও করিম বেনজেমার গোলে প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় ঠিকই। কিন্তু ৭৬ মিনিটে রাদামেল ফ্যালকাওয়ের দারুণ এক গোলে ম্যাচে ফেরার বার্তা দেয় রায়ো ভায়েকোনা। ড্রয়েরও খুব কাছাকাছি ছিল তারা। কিন্তু দিনশেষে ২-১ গোলের জয় নিয়ে নিজেদের মাঠে হাফ ছেড়ে বাচে রিয়াল। একই সঙ্গে ১২ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে ধরে রাখলো শীর্ষস্থানও।
অন্যদিকে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার সময়টা বাজে যাচ্ছে তো যাচ্ছেই। সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে মাত্র ৩৪ মিনিটেই ৩-০ তে এগিয়ে যায় তারা। আর ম্যাচ শেষে কি না স্কোর লাইন ৩-৩। নতুন কোচ জাভি দায়িত্ব নেওয়ার আগে লিগে টানা ৪ ম্যাচ জয়হীন থাকল কাতালানরা। ম্যাচ শেষে ড্রয়ের কারণ হিসেবে রেফারীকে দুষলেন বার্সা মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং।
তিনি বলেন, 'রেফারি পাঁচ মিনিট দিলো এবং আমার মনে হয় সেটা বেশিই হয়েছে। যখন আমরা হারতে থাকি, তখন সবসময় তারা দুই বা তিন মিনিট দেয়। শুধুমাত্র থ্রো ইনের জন্য সে অতিরিক্ত সময় যোগ করলো। আমি এমনটা এর আগে দেখিনি।'
ডি ইয়ংয়ের চটে যাওয়ার কারণ হলো, এই অতিরিক্ত সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোলে সমতা ফেরান সেল্টা ফরোয়ার্ড ইয়াগো আসপাস। তার আগে আনসু ফাতি, সের্হিও বুসকেটস ও মেমফিস ডিপায়ের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল বার্সা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে নোলিতো এক গোল আসপাসের জোড়ায় ম্যাচে ফিরে আসে সেল্টা।
ইত্তেফাক/টিএ