টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভরা মৌসুমে সারের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা ও চরম বিপাকে পরেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের ও বিএডিসির ডিলার এবং হাট বাজারে ঘুরে চড়া দামেও সার না পেয়ে কৃষকরা হন্যে হয়ে ছুটাছুটি করছেন বলে জানেয়েছেন। সারের অভাবে এ বছল মির্জাপুর উপজেলায় নয় হাজার ৫০০ হেক্টর জমির সরিষার আবাদ না হওয়ার আশংকা করছেন ভুক্তভোগি কৃষকরা।
রবিবার হাট-বাজার, ডিলারের দোকান এবং কৃষি অফিস ঘুরে দেখা গেছে সার সংকটের চিত্র। উপজেলা কৃষি অফিস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, পরিবহন ধর্মঘটসহ গোডাউনে সার বিতরনে বিভিন্ন অংসগতির কারনে ডিলারগন সার উত্তোলন করতে পারছেন না।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্র জানায়, চলতি মৌসুমে মির্জাপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে ৯ হাজার ৫০০শ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে যা টাঙ্গাইল জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে সর্বাধিক। বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ হতে তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সরিষার আবাদ হয়ে থাকে। এ সময় ডিএপি এবং এমওপি সারের চাহিদা থাকে। ১৫-২০ দিনের জন্য সারের প্রয়োজন ১১শ মেট্রিক টন থেকে ১৪শ মেট্রিক টন। হঠাৎ করে সারের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ডিএপি টাঙ্গাইল এবং এমওপি নারায়নগঞ্জ গোডাউন থেকে সরবরাহ করার কথা থাকলেও গত ১০-১২ দিন ধরে সরবরাহ নেই।
কৃষকদের মধ্যে আব্দুস সবুর মিয়া (৬০) ও রুবেল হোসেন (৫৬) অভিযোগ করেন, এখন সরিষা বপনের ভরা মৌসুম। এই মৌসুমে ডিলার ও হাট বাজারে সারের দোকানে সার পাওয়া যাচ্ছে না। চড়া দাম দিয়ে সারের কোন সন্ধান না পাওয়ায় শতশত কৃষক বিপাকে পরেছেন। বিষয়টির দিতেক দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন।
অপর দিকে মির্জাপুর পৌরসভা, মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাওড়া, ভাদগ্রাম, বহুরিয়া, গোড়াই, লতিফপুর, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নে কৃষকদের মধ্যে চলছে সারের জন্য মহা সংকট। উপজেলা সার ডিলার সমিতির সমিতির সাধারন সম্পাদক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, গোডাউন থেকে সার উত্তোলন সমস্যা এবং পরিবহন সংকটসহ সুষ্ঠু তদারকির অভাবে সার সরবরাহ করতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি তারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, পরিবহন সংকটসহ বিভিন্ন কারনে সরিষা ম্যেসুমের সময় সারের সাময়িক সংকট চলছে। তবে বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের মধ্যে সরকারী প্রনোদনার বিনামুল্যে সার-বীজ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা যাতে হয়রানীর শিকার না হন এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।