কারো বদলি হয়ে দ্বাদশ ফিল্ডার হিসেবে ফিল্ডিং করবে, ইয়াসির আলী রাব্বি। সতীর্থদের জন্য মাঠে পানি নিয়ে যাবে, ইয়াসির আলী রাব্বি। গত তিন বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলে এই ভূমিকায় বারবার দেখা গেছে তাকে। কিন্তু কখনোই সেরা একাদশে জায়গা হয়নি তার। বাংলাদেশের জার্সি গায়ে ইয়াসিরের অভিষেকের অপেক্ষা যেন ফুরাচ্ছে না। ২০১৯ সাল থেকে জাতীয় দলের সঙ্গেই পথচলা তার। কেবল ২২ গজে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাচ্ছেন না তিনি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজের জন্য চলমান অনুশীলনেও ডাক পড়েছে ইয়াসিরের। সোমবার (৮ নভেম্বর) সেখানেই ২৫ বছর বয়সী এই তরুণকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কতবার জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন?
কিছুটা বিব্রত ইয়াসির অবশ্য নিজেও সংখ্যাটা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি। তিনি বলেছেন, ‘এটা হিসাব করতে গেলে তো ২০১৯ থেকে হিসাব করতে হবে। ৪-৫ বার তো হবে!’ ২০১৯ সালে বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে প্রথমবার ডাক পান তিনি। পরে টেস্টে প্রায় প্রতিটি সিরিজেই ছিলেন ইয়াসির। এতবার ডাক পেয়েও খেলার সুযোগ না পাওয়াটা চরম হতাশারই বটে। ইয়াসিরও হতাশ হয়েছেন। তবে এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে হতাশা ঝেড়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার টোটকা, আত্মবিশ্বাস সঞ্চয় করেছেন তিনি।
ডানহাতি এ মিডল অর্ডার ব্যাটার বলেছেন, ‘আমি আসলে আমাদের একজন বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলছিলাম এ জিনিসটা নিয়ে। উনি আমাকে বলছে তুমি যে জায়গায় আছো সে জায়গায় বাংলাদেশের অনেকেই নাই। তুমি যদি এভাবে চিন্তা করো তাহলে তোমার জন্য ভালো।’
ইয়াসির আরও বলেন, ‘আর যদি চিন্তা করো যে আমাকে খেলাচ্ছে না কেন? আমার হচ্ছে না। এসব চিন্তা করলে তুমি নিজেই পিছিয়ে যাবে। এই কথাটা আমার অনেক ভালো লাগছে। যখনই আমি মানসিকভাবে ডাউন হই তখন ভাবি আমি যে জায়গায় আছি তা অনেকের জন্য স্বপ্ন। আমি হয়তো দরজায় আছি, আরেকটু কষ্ট করলে দলে ঢুকতে পারবো। আমি কষ্ট না করলে হয়তো ছিটকে যাবো।’
এবারও পাকিস্তান সিরিজে নির্বাচকদের ভাবনায় আছেন ইয়াসির। অতীতের মতোই সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা দেবেন, এমন ভাবনা নিয়েই অনুশীলন করছেন তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের পরিসংখ্যান বলছে, টেস্টই ইয়াসিরের আদর্শ জায়গা। ৫৭ ম্যাচে ৫০.৩৭ গড়ে ৯টি সেঞ্চুরিতে ৩ হাজার ৯৮০ রান করেছেন তিনি।
বর্তমানে অনুশীলনে বড় শট খেলার চেষ্টাই করছেন ইয়াসির। টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনের পরামর্শে চলছে অনুশীলন। নিজেকে পাওয়ার হিটার মনে করেন না তিনি। তবে দলের প্রয়োজন হলে সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করবেন ইয়াসির। তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের হয়ে খেলতে চান চট্টলার এই তরুণ।
তিনি বলেন, ‘সবসময় চাই তিন ফরম্যাটে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করতে। তবে দলের লক্ষ্যটা যদি এমন হয় আমাকে পাওয়ার হিটিং করতে হবে তাহলে আমি নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করবো এইতো।’
ইত্তেফাক/টিএ