আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চারটি ওয়্যার হাউজ পরিদর্শন শেষে সীলগালা করে দিয়েছে হাইকোর্ট কর্তৃক গঠিত পরিচালনা বোর্ড। সোমবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে সাভারের আমিনবাজার এলাকার পিংক ফুড ইন্ড্রাষ্টিয়াল পার্ক ও বলিয়ারপুর এলাকায় অবস্থিত ইভ্যালির ৪টি ওয়্যার হাউজ সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে তা সীলগালা করে দেয়া হয়। ইভ্যালির স্থাবর সম্পদের পরিমান দেখতে এ কমিটি সেখানে যান।
আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের নেতৃত্বে এসময় বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরাও তার সাথে ছিলেন। পরিদর্শনকালে ওয়্যারহাউজটিতে বেশ কিছু টেলিভিশন, কোমল পানীয়সহ ইলেকট্রনিক্স মালামাল দেখতে পান তারা। এসময় কমিটির অন্যান্য সদস্যের মধ্যে বোর্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব কবীর মিলন, সাবেক সচিব মোহাম্মদ রেজাউল আহসান, ফখরুদ্দিন আহম্মেদ, ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ উপস্থিত ছিলেন।
পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয় ইভ্যালির কি পরিমান সম্পদ রয়েছে। আমরা এখন সরেজমিনে পরিদর্শন করবো এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, হাইকোর্ট আমাদেরকে দুটি অপশন দিয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া আর অপরটি হচ্ছে অডিটের মাধ্যমে সম্পদের পরিমান নির্নয় করে গ্রাহকের পাওনা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা। আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা ইভ্যালির ওয়্যার হাউজগুলো পরিদর্শন এবং অডিটের মাধ্যমে সকল সম্পদ নিয়ন্ত্রণে আনবো।
এসময় বোর্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব কবীর মিলন বলেন, আমরা আসলে দ্বিতীয় অপশনটি এই মুহূর্তে চিন্তা করছি না, আমরা আশাবাদী ব্যবসাটি চালিয়ে যাওয়া। যদি পারি সেটাই মঙ্গলজনক হবে। তবে সেটি এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। প্রথমে আমরা প্রতিষ্ঠানটির সম্পূর্ণ আর্থিক চিত্রটা তুলে আনার চেষ্টা করব। আমরা আশ্বস্ত করতে পারি এখানে চুল পরিমান ব্যত্যয় থাকবে না। প্রথমেই আমরা প্রতিষ্ঠানটির সার্ভার আপ করার ব্যবস্থা করবো। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আর্থিক চিত্র তুলে আনবো। এখন আমরা তথ্যগুলো সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি, এরপর অডিট হবে।
এছাড়া ভ্যাট, ইনকাম ট্যাক্সসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে হাইকোর্ট অনুমোদিত অডিট ফার্মকে দেব। অডিট ফার্ম তাদের অডিট করবে এবং অডিটের উপর ভিত্তি করেই আমরা সামনে অগ্রসর হবো। আমাদের মূল লক্ষ্য এখান থেকে সঠিক এবং নির্ভুল তথ্য তুলে এনে একটি সঠিক প্রতিবেদন তৈরি করা।
মাহবুব কবীর মিলনের মতে, ইভ্যালির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন বিক্ষিপ্তভাবে রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি তাদেরকে একত্রে এনে তাদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করতে। এছাড়াও ইভ্যালির প্রতারিত গ্রাহকদেরকে কাছে থাকা তথ্যগুলো সংরক্ষন করে রাখার জন্য অনুরোধ করছি।
গত ১৮ অক্টোবর বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকারের হাইকোর্টের বেঞ্চ আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে প্রধান করে ৫ সদস্যের এক কমিটি গঠন করে ইভ্যালি পরিচালনা করার আদেশ দেন। এই কমিটি ইভ্যালির কোথায় কি আছে সবকিছু বুঝে নেবেন। কোম্পানি যেভাবে চলে, সেভাবে প্রথমে বোর্ড মিটিং বসবে। তাদের দায়িত্ব হলো টাকাগুলো কোথায় আছে, কোথায় দায় আছে, তা দেখা। আদালতের লিখিত আদেশ পাওয়ার পরই বোর্ড মিটিং করে তারা সরেজমিনে ইভ্যালির ওয়ার হাউজ পরিদর্শন করছেন। আগামী ২৩ নভেম্বর এ কমিটি আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেবেন বলে জানা গেছে ।