বদলগাছীতে ইটভাটা মালিকেরা হতাশায় ভুগছেন। তারা বলছেন, প্রতিবছর এই সময় ইট পোড়ার সব প্রস্তুতি শেষ হয়। চলতি মৌসুমে ভাটায় ইট পোড়ানোর সময় চলে যাচ্ছে। কিন্তু এবার বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করে লাখ লাখ কাঁচা ইট তৈরির পরও কয়লা সংকটের কারণে সেগুলো পোড়ানোর কাজ শুরুই করতে পারেননি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বদলগাছীতে ২৬টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে ৬টিতে এখনো আগুন দেওয়ার উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। আবার নতুন করে জ্বালানি তেল ও কয়লার দামও বেড়েছে।
ইটভাটা মালিক মো. সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রতি বছর নভেম্বর মাসের শুরুতেই প্রায় সব ভাটায় ইট পোড়ানোর কাজ শুরু করি। গত বছর ইটের দাম ছিল ৭ থেকে ৮ হাজার ৫০০ টাকা। এক টন কয়লার মূল্য ছিল ৯ হাজার থেকে ১১হাজার টাকা। এ বছর টনপ্রতি দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকা। কয়লার দিগুণ দাম হওয়ায় কঠিন সমস্যায় পড়েছি। খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার ইটের মূল্য প্রতি হাজার ১১ থেকে ১৩ হাজার টাকায় কিক্রি করতে হবে। আর উচ্চদামে ক্রেতারা কিভাবে ইট কিনবেন, তা নিয়ে আশঙ্কায় আছি।’
ইটভাটার শ্রমিক আকিব আলী, সাদ্দাম ও কফিল বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর ইট পোড়ার মৌসুমে ৩-৪ মাসে সারাবছরের আয় করি। কিন্তু এই বছর এখনো ভাটার কাজই শুরু করেননি মালিকেরা। আবার মালিকদের কাছ থেকে যারা অগ্রিম টাকা নিয়েছেন, তাদের ভাটার কাজ না হলে পরিবার নিয়ে মহাবিপদে পড়তে হবে। তারা বলেন, ভাটা না চললে আমরা হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বো।’
বদলগাছী উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সহ-সভপতি মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘এবার শুরুতেই কয়লার দাম দিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় ইট পোড়াতে খরচও অনেক বাড়বে। আমরা প্রচুর অর্থ খরচ করে লাখ লাখ কাঁচা ইট কেটে রেখেছি। কিন্তু এখন পোড়াতে না পেরে লোকসানের আশঙ্কায় আছি।
ইটভাটা মালিক সমতির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, ‘কয়লার দাম দিগুণেরও বেশি হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি তেলের দামও বেড়ে গেছে। ফলে হতাশ হয়ে পড়েছেন মালিকরা।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনেক ঠিকাদারদের কমদামে ইট দেওয়ার জন্য অগ্রিম টাকাও নিয়েছেন অনেক ইটভাটার মালিক। এখন কয়লা ও জ্বালানির অতিরিক্ত খরচের কারণে ইটের উৎপাদন মূল্যও অনেক বেড়ে যাবে।’