প্রসপেক্ট অব বাংলাদেশ—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একঝাঁক উদ্যমী শিক্ষার্থীদের সংগঠন। যারা কাজ করে শিক্ষা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে অসংখ্য বসবাস করা মানুষদের সিংহভাগই খেটে-খাওয়া পরিবার, যাদের একবেলা খাবার আছে তো আরেকবেলা অনাহারে অর্ধাহারে থাকতে হয়। এসব পরিবারে ছোট্ট বাচ্চাদের পড়ালেখা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। তাই এরকম শিশুদের স্কুলমুখী করে তোলার পাশাপাশি তাদের পড়ানো এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ দিয়ে সাহায্য করে আসছে সংগঠনটি।
অবাক করার মতো ঘটনা হলো, সংগঠনটির সব কার্যক্রম পরিচালিত হয় সদস্যদের দিনপ্রতি তিন টাকা অনুদানের মাধ্যমে।
এবার তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী হাঁছি মেস্তান (র.) শিক্ষা একাডেমির অর্ধ শতাধিক দরিদ্র শিশুদের মাঝে চাদর বিতরণ করেছেন। ছোট্ট পরিসরে শিশুদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আনন্দিত সংগঠনের সদস্যরাও। সংগঠনের আহ্বায়ক তাহলিল সাকিফ বললেন, ‘আমরা যেই প্রতিষ্ঠানের শিশুদের মাঝে চাদর বিতরণ করেছি, তারা অধিকাংশই গরিব। সকালবেলা শীতের তীব্রতা বেশি থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে আসতে পারে না। আমরা ৫০ জন শিক্ষার্থীকে একটা করে চাদর দিয়েছি। যাতে করে তারা শীতে কষ্ট না পায় এবং পড়াশোনায় ব্যাঘাত না ঘটে। সামনে আমরা তাদের বাকি সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা রাখি।’
সংগঠনের আরেক সদস্য খাদিজা রশ্মি শ্রাবন্তি তার প্রত্যাশার কথা বলছিলেন এভাবেই, ‘আমরা বাচ্চাদের প্রতিষ্ঠানে যখন চাদর দিচ্ছিলাম, যদিও আমাদের সামর্থ্য অনেক কম, তবুও বাচ্চাদের হাসিমাখা মুখগুলো আনন্দ দিয়েছে। এ এক ভিন্ন সুখ। যদি দেশের সামর্থ্যবান মানুষেরা নিজের জায়গা থেকে এগিয়ে আসতেন তাহলে হয়তো শিশুদের অবহেলিত, বঞ্চিত হতে হতো না। আর দশটা বাচ্চার মতো তারাও বেড়ে উঠত। কারণ আজকের শিশুদের মধ্য থেকে আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব তৈরি হবে।’