মোংলা বন্দরের পশুর নদীতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চোরাচালান চক্র। বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ কেন্দ্রিক চক্র দিনে-রাতে পাচার করছে মূল্যবান বিভিন্ন মালামাল। আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে বিভিন্ন সময়ে নানা জায়গা থেকে পাচারকৃত মালামাল উদ্ধার হলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে চক্রের সদস্যরা।
মোংলা বন্দর কাস্টমস ভেন্ডর অ্যাসোসিয়েশনসহ বন্দরের বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের দেয়া লিখিত অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, বন্দরে আগত বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে সার্বক্ষণিক কাস্টমসের রামেজ টিম থাকার কথা থাকলেও মূলত তারা না থাকার কারণেই চোরাকারবারিরা জাহাজ থেকে বিভিন্ন মালামাল পাচারের সুযোগ পাচ্ছে। এ বিষয়ে মোংলা কাস্টমস হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা ও রামেজ টিম প্রধান মো. নাজমুল বলেন, আমাদের লোকবলের অভাব রয়েছে। এই কারণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে তৎপর হবো, ভবিষ্যতে আর এ সমস্যা থাকবে না। মোংলা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ হোসেন আহমেদ বলেন, মোংলা বন্দর কাস্টমস ভেন্ডর অ্যাসোসিয়েশনের চিঠি পেয়েছি। খোঁজ খবর নিয়ে অবশ্যই প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় অভিযোগ পাওয়া যায়, বন্দরে অবস্থানরত বিভিন্ন জাহাজের পণ্য বোঝাই-খালাস ও পরিবহণের জন্য ফেয়ারওয়ে বয়া, হিরণ পয়েন্ট, হাড়বাড়িয়া ও সুন্দরীকোঠা এলাকায় কার্গো জাহাজে করে স্টিভিডরিং কোম্পানিগুলো তাদের শ্রমিক-কর্মচারীদের পাঠায়। এসব কার্গোর স্টাফদের ম্যানেজ করে চোরাকারবারিরা জাহাজ যায় এবং পণ্য চোরাচালান করে। এছাড়া ফেরিওয়ালা নামের আড়ালে চক্রটি বিদেশি জাহাজ থেকে পণ্য চোরাচালান করে আসছে নিয়মিতভাবেই। এ চক্র মূলত বিদেশি জাহাজ থেকে ডিজেল, মোবিল, মুরিং রোপ, ওয়ায়ের রোপ, লোহা, তামা, বিদেশি মদ, সিগারেট ও রংসহ নানা ধরণের মূল্যবান এবং গুরুত্বপূর্ণ মালামাল পাচার করে। বিশেষ করে গ্যাস, ভোজ্যতেল ও গাড়ির জাহাজগুলো থেকেই ডিজেল বেশি পাচার হয়ে থাকে। বিদেশি জাহাজের হ্যাচ ভেঙেও মাঝে মধ্যে মালামাল লুটের অভিযোগ রয়েছে।
গত রবিবার ও সোমবার মোংলা বন্দরের পশুর নদীর কানাইনগর এলাকা থেকে চোরাচালানকারী চক্রের দুইটি ট্রলার ও এক পাচারকারীর সদস্যসহ প্রায় ৬৮ লাখ টাকা মূল্যের ৪৮ পিস এসএস পাইপ জব্দ করে কোস্ট গার্ড। এছাড়া এর আগে পুলিশও চোরাকারবারিদের পাচারকৃত বিদেশি জাহাজের বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করে কাইনমারী-কানাইনগর এলাকা হতে। আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে বিদেশি জাহাজ থেকে পাচারকৃত মালামালের আংশিক পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হলেও আটক হয় না পাচারকারীরা। মোংলা বন্দর কাস্টমস ভেন্ডর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আ. মালেক বলেন, তারা দিনে ও রাতের আধারে জাহাজ থেকে মালামাল পাচার করে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. আয়উব আলী বলেন, এ সব বন্ধে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও কাস্টমসকে চিঠি দেয়া হবে এবং তাদের সাথে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ী ছাড়া যাতে অন্য কেউ যাতে বিদেশি জাহাজে উঠতে না পারে সেজন্য তাদের ব্যবহৃত নৌযানে রং দিয়ে মার্কিং ও পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক করা হবে।