‘নায়ক’-টুইটারে ছবিটা প্রকাশ করে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে এভাবেই সম্বোধন করেছেন শোয়েব আখতার। না ছবিতে কোনো খেলার দৃশ্য ছিল। ছবিটা দেখে যেকারোরই আতকে উঠার কথা, বিস্মিত হওয়ার কথা। এই রিজওয়ানই কি সেমিফাইনালে ৬৭ রানের দুর্দান্তটা ইনিংস খেলেছিলেন? খেললেও সেটা কীভাবে?
সেমিফাইনালের আগে মুহূর্তে তার খেলা নিয়ে শঙ্কা জেগেছিল। সাধারণ জ্বর হিসেবেই ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু রিজওয়ান যে দুইরাত আইসিইউতে কাটিয়েছেন সেটা ঘুণাক্ষরেও টের পাওয়া যায়নি। সেই ঘটনাটি পরশু খোলাসা করেন পাকিস্তানের ব্যাটিং কোচ ম্যাথু হেইডেন, ‘রিজওয়ান এক রাত আগেও ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি একজন যোদ্ধা।’
অসুস্থতার মধ্যে থেকেও দেশের জন্য খেলতে কোনো রকমের কুন্ঠাবোধ করেননি রিজওয়ান। তার ওপর ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। রিজওয়ান শুধু খেললেনই না, দিয়েছেন নিজের সেরাটা। ৫২ বলে ৬৭ রানের ইনিংসে দলকে এনে দেন লড়াই করার পুঁজি। এর ম্যাচে ইনিংসের ১৩ তম ওভারে মিশেল স্টার্কের বাউন্সার হেলমেটে লাগলে মাথায় আঘাত পান তিনি। তারপরও লড়াই করে যান অদম্য সৈনিকের মতো। কিন্তু ম্যাচ শেষে ৫ উইকেটের হারে আক্ষেপে পুড়তে হয়েছে এই ক্রিকেটারকে।
এর বাইরেও রিজওয়ানকে নিয়ে আলোচনার কমতি নই। দেশ তো বটেই দেশের বাইরেও অনেকের কাছ থেকেই মিলছে প্রশংসার বাণী। ক্রিকেট ও দেশের প্রতি নিবেদন থাকলেই হয়তো এমনটা করা যায়। রিজওয়ানের খেলা নিয়ে পাকিস্তান দলের চিকিৎসক বলেন, ‘৯ তারিখ বুকে সংক্রমণ ধরা পড়ায় রিজওয়ানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সুস্থ হতে দুই রাত আইসিইউতে থেকেছে সে। সুস্থ হওয়ার পর ওর দায়বদ্ধতা দেখে আমরা মুগ্ধ। দেশের হয়ে খেলার জন্য ও ছটফট করছিল। তার ফল আমরা ম্যাচে দেখতে পেলাম।’
রিজওয়ানকে নিয়ে পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর বলেন, ‘সে একজন টিম ম্যান। সেমিফাইনালে যেভাবে খেলল তা অসাধারণ। যখন আমি তাকে দেখলাম, কিছুটা অসুস্থ মনে হচ্ছিল। তবে যখন স্বাস্থ্য নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম সে বলল যে আমি খেলব।’