টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে শ্বশুর বাড়িতে এসে স্ত্রী, শাশুড়ি ও শ্যালিকাকে হাত-পা বেঁধে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম (৩৫) নামে প্রবাসফেরত এক যুবককে গ্রপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ নভেম্বর) ভোরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ১০ নম্বর গোড়াই ইউনিয়নের সোহাগপাড়া মৈশালপাড়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আইয়ুব হোসেন খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, সাইফুল দীর্ঘ ১০ বছর সাউথ আফ্রিকা থেকে গত এক বছর আগে দেশে ফিরে আসেন। ৬-৭ মাস আগে সোহাগপাড়া মৈশালপাড়া গ্রামের স্বামী পরিত্যক্ত নাসিমা বেগমের কন্যা সুমাইয়াকে বিয়ে করে। গত রবিবার সাইফুল শ্বশুর বাড়িতে যান। বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রীর এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে শাশুড়িসহ পরিবারের লোকজনদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এতে সাইফুল তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর শুক্রবার ভোর রাতে ঘুমের মধ্যে স্ত্রী, শাশুড়ি ও শালিকার হাত-পা বেঁধে বটি দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ সময় সুমাইয়াদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে রক্তাক্ত অবস্থায় মা ও দুই মেয়েসহ তিনজনকে উদ্ধার করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয়রা সাইফুলকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অচেতন অবস্থায় সাইফুলকে আটক করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সাইফুল বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আইয়ুব হোসেন খান বলেন, ‘সাইফুলের স্ত্রী এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার (১৮), শাশুড়ি গার্মেন্টস কর্মী নাসিমা বেগম (৫০) এবং শ্যালিকা স্কুল ছাত্রী সিমু আক্তার (১৪) কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে নাসিমা বেগম ও সুমাইয়ার আশঙ্কাজনক। এ বিষয়ে নাসিমা বেগমের মা জয়নব বেগম বাদী হয়ে সাইফুলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। ’ তিনি আরও বলেন, সাইফুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার মূল রহস্য উৎঘাটনের চেষ্টা চলছে।